‘ভয় না থাকলে সিংহকেও বিড়াল মনে হতে পারে’

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনেও নিজের স্বভাবসুলভ শান্ত ভাব ধরে রাখলেন নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের গুরু কার্লো আনচেলত্তি। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিল কোচ কথা বলেছেন দায়িত্ব, ভয়, নেইমারের চোট, সেট পিস, দলীয় ভারসাম্য এবং বিশ্বকাপে সেলেসাওদের সম্ভাবনা নিয়ে।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে আনচেলত্তির সবচেয়ে আলোচিত কথাটি এসেছে ভয় নিয়ে। ব্রাজিল কোচ মনে করেন, ভয়কে পুরোপুরি অস্বীকার করা ঠিক নয়। বরং সঠিক মাত্রার ভয় মানুষকে সতর্ক রাখে।
আনচেলত্তির ভাষায়, ‘ভয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ ভয় না থাকলে সামনে সিংহ এলেও আপনি সেটিকে বিড়াল ভাবতে পারেন। আমি খুব আশাবাদী, আমরা বিশ্বকাপের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত।’
ব্রাজিলের কোচ হিসেবে এটি আনচেলত্তির প্রথম বিশ্বকাপ। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য বড় ম্যাচ, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও লিগ শিরোপার অভিজ্ঞতা থাকলেও জাতীয় দলের বিশ্বকাপ মঞ্চ তাঁর জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। সেই দায়িত্বের কথাও স্বীকার করেছেন ইতালিয়ান কোচ।
তিনি বলেন, ফুটবলের দেশ এবং বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলকে প্রতিনিধিত্ব করা বিশেষ দায়িত্বের। এই মুহূর্ত তাঁর ক্যারিয়ারের জন্যও সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাজিলের খেলার ধরন নিয়ে আনচেলত্তি খুব পরিষ্কার। শুধু বল দখল বা নিয়ন্ত্রণই তাঁর কাছে সব নয়। তাঁর মতে, ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গোল করা এবং গোল না খাওয়া। নিয়ন্ত্রণ দরকার, কিন্তু সেটিই চূড়ান্ত নয়। ম্যাচের কিছু সময়ে দলকে কমপ্যাক্ট হতে হবে, কারণ বিশ্বকাপে যেকোনো দলই বিপদ তৈরি করতে পারে।
ফেভারিট প্রশ্নে আনচেলত্তি ব্রাজিলকে একক দাবিদার হিসেবে ঘোষণা করেননি। তবে তাঁর বিশ্বাস, ব্রাজিল যেকোনো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। সেলেসাওদের যথেষ্ট মান আছে এবং তারা যে কারও বিপক্ষে লড়তে পারবে—এমন আত্মবিশ্বাসই ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।
নেইমারকে নিয়েও কথা বলেছেন আনচেলত্তি। চোটের কারণে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে তাঁর খেলা হচ্ছে না। ব্রাজিল কোচ জানিয়েছেন, নেইমার দ্রুত ফিরতে কঠোর পরিশ্রম করছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই ব্রাজিল শিবির আশা করছে তিনি যত দ্রুত সম্ভব দলের সঙ্গে ফিরতে পারবেন।
মরক্কোকে নিয়ে আনচেলত্তির সতর্কতা স্পষ্ট। আফ্রিকান দলটিকে তিনি সংগঠিত ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলকে পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ খেলতে হবে। রক্ষণে সতর্ক থাকতে হবে, একই সঙ্গে আক্রমণে নিজেদের মান কাজে লাগাতে হবে।
আনচেলত্তি বলেন, আধুনিক ফুটবলে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। মরক্কো সংগঠিত, মানসম্পন্ন এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী দল। তাই তাদের বিপক্ষে মনোযোগের ঘাটতি চলবে না।
সেট পিস নিয়েও আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্রাজিল কোচ। আনচেলত্তির মতে, আধুনিক ফুটবলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গোল আসে সেট পিস থেকে। তাই গত কয়েক দিনের অনুশীলনে কর্নার, ফ্রি-কিক ও বক্সে ফিনিশিং নিয়ে কাজ করেছে ব্রাজিল। তাঁর বিশ্বাস, ব্রাজিলের ভালো ক্রসার ও ফিনিশার আছে; এখন সেটি ম্যাচে কাজে লাগাতে হবে।
বিশ্বকাপের ফেভারিট প্রসঙ্গে আনচেলত্তি স্পেনের নাম উল্লেখ করলেও কাউকে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে রাখেননি। তাঁর মতে, এই বিশ্বকাপে অনেক দলই শেষ পর্যন্ত যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। তাই আগেভাগে ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন।
ব্রাজিলের সামনে তাই প্রথম পরীক্ষা মরক্কো। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আবারও শিরোপার খোঁজে নামছে, তবে আনচেলত্তির বার্তা পরিষ্কার—আত্মবিশ্বাস থাকবে, কিন্তু আত্মতুষ্টি নয়। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে সিংহকে বিড়াল ভাবার ভুল করার সুযোগ নেই।
