Advertisement

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ইয়ামালকে যে কথা বলেছিলেন মেসি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ইয়ামালকে যে কথা বলেছিলেন মেসি
লামিনে ইয়ামাল ও লিওনেল মেসি। ছবি: গেটি ইমেজ

একজন তখন সদ্য বিশ্বকাপজয়ী, অন্যজন শিরোপা হারানোর বেদনায় নুয়ে পড়া। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের উৎসবের মধ্যেই লিওনেল মেসির দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। দুই প্রজন্মের দুই তারকার আবেগঘন আলিঙ্গনের ছবিটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। এবার সেই সময় মেসির সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, তা প্রকাশ করেছেন ইয়ামাল।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল জানিয়েছেন, নিজের পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মেসি। ভবিষ্যৎ ইয়ামালদের প্রজন্মের বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

মেসির বলা কথাগুলো তুলে ধরে ইয়ামাল বলেন, ‘তিনি আমাকে নিজের পথে এগিয়ে যেতে বলেছেন। বলেছেন, ভবিষ্যৎ আমাদের প্রজন্মের। তার ওই কথাগুলোর মূল্য আমার গলায় থাকা সোনার পদকের মতোই।’

মার্কার সেই সাক্ষাৎকারে বলা হয়েছে, শেষ বাঁশির পর স্পেনের সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপনে যোগ দেওয়ার আগে মেসির কাছে যান ইয়ামাল। আর্জেন্টাইন তারকাকে সম্মান জানিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। মেসিও তাকে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য অভিনন্দন জানান।

মেসিকে নিজের আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করে ইয়ামাল বলেন, ‘তিনি ইতিহাসের সেরা এবং এমন একজন, যাকে আমি সব সময় অনুসরণ করেছি। ম্যাচ শেষে আমি শুধু তাঁর প্রতি নিজের সম্মান দেখাতে চেয়েছিলাম।’

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে মাঠের অন্য প্রান্তে দুই দলের কয়েকজন ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেও মেসি ও ইয়ামালের আলিঙ্গন হয়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধার অন্যতম সুন্দর ছবি।

নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারায় স্পেন। এর মাধ্যমে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতে লা রোহারা। ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হন ইয়ামাল। তার আগে কম বয়সে ফাইনালে খেলেছিলেন ব্রাজিলের পেলে ও ইতালির জিউসেপ্পে বের্গোমি।

অন্যদিকে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। ব্রাজিলের কাফুর পর ছেলেদের বিশ্বকাপে তিনটি ফাইনালে অংশ নেওয়া দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি। ২০২২ সালে শিরোপা জিতলেও ২০১৪ ও ২০২৬ সালের ফাইনালে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে।

মেসি ও ইয়ামালের পরিচয়ের গল্প অবশ্য প্রায় দুই দশক পুরোনো। ২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ছবিতে পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামালকে কোলে নিয়েছিলেন তখনকার ২০ বছর বয়সী মেসি। সেই শিশুই পরে বার্সেলোনার ১০ নম্বর জার্সি পরে মেসির উত্তরসূরি হয়েছেন। এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁকে হারিয়েই হয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

ফাইনালের পর তাঁদের আলিঙ্গনকে তাই অনেকেই দেখছেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে ফুটবলের মশাল তুলে দেওয়ার প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে।