হন্ডুরাস জয়ের পরও স্বস্তিতে নেই আর্জেন্টিনা

হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। মাঠের ফল স্বস্তির হলেও ম্যাচ শেষে লিওনেল স্কালোনির কথায় পরিষ্কার, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিবিরে এখনও পুরো নিশ্চিন্ত হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। লিওনার্দো বালেরদি চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর আরও কয়েকজন ফুটবলারের ফিটনেস নিয়ে সতর্ক আর্জেন্টিনা কোচ।
ডান পায়ের সোলিয়াস পেশির চোটে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে বালেরদির। মার্সেই ডিফেন্ডারের বদলি এখনো ঘোষণা করেনি আর্জেন্টিনা। স্কালোনি জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত শুধু একজন সেন্টার ব্যাক ডাকা হবে কি না, সেই হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। দলের আরও কয়েকজন পুরোপুরি ফিট নন। তাই আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মঙ্গলবারের প্রস্তুতি ম্যাচের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আর্জেন্টিনা কোচিং স্টাফ।
হন্ডুরাস ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, অনেক খেলোয়াড় শতভাগ ফিট নন। বালেরদির বদলি নিয়ে সিদ্ধান্তও তাই শুধু একই পজিশনের খেলোয়াড় দিয়ে পূরণ করার বিষয় নয়। সামনে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আছে, সেটির পর সবার অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আর্জেন্টিনা শিবিরে সবচেয়ে বেশি নজর এখন গনসালো মন্টিয়েল, নাহুয়েল মলিনা ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের দিকে। এই তিনজনই হন্ডুরাস ম্যাচে বেঞ্চেও ছিলেন না। মন্টিয়েল ও মলিনা দুজনই পেশির সমস্যায় ভুগছেন। দুজনেরই পজিশন কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি স্কালোনির জন্য আরও জটিল। এই কারণেই প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য আগুস্তিন জিয়াই ও নিকোলাস কাপালদোকে ডাকা হয়েছে। হন্ডুরাসের বিপক্ষে জিয়াই শুরুর একাদশেও ছিলেন।
পারেদেসের অবস্থাও পর্যবেক্ষণে আছে। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে শেষ ম্যাচে তার ছোট ধরনের পেশির চোট ধরা পড়ে। এখনও স্বাভাবিক অনুশীলনে ফিরতে পারেননি এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে অভিজ্ঞতার জায়গায় পারেদেস গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। তাই তার পুনরুদ্ধার স্কালোনির পরিকল্পনার জন্য বড় বিষয়।
তবে সব চোট-খবরই উদ্বেগের নয়। হুলিয়ান আলভারেজ গোড়ালির অস্বস্তিতে থাকলেও সেটি বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণে বাধা হবে না বলে আর্জেন্টিনা শিবিরের ধারণা। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ডান হাতের অনামিকায় ফ্র্যাকচার থেকে সেরে উঠছেন। তবু আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার গোলবার সামলানোর কথা। নিকো পাজও বাঁ হাঁটুর ধাক্কাজনিত সমস্যা কাটিয়ে রোববার থেকে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা।
বালেরদির প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগ লুকাতে পারেননি স্কালোনি। তিনি জানিয়েছেন, আগের দিনও আশা করেছিলেন চোটটি গুরুতর হবে না। কিন্তু পরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়, বালেরদি গ্রুপ পর্বে দলকে সাহায্য করার মতো অবস্থায় থাকবেন না। ঝুঁকিটা অনেক বেশি ছিল বলেই তাঁকে বাদ দিতে হয়েছে।
স্কালোনির জন্য সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিগতভাবেও কঠিন। বালেরদিকে তিনি অনেক দিন ধরে চেনেন, অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায় থেকেই তার ওপর নজর ছিল আর্জেন্টিনা কোচিং স্টাফের। তাই তাকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার খবর জানানো সহজ ছিল না। স্কালোনি বলেছেন, বালেরদির সঙ্গে কথা বলা এবং এরপর হন্ডুরাস ম্যাচে দলকে নামানো—দুটিই মানসিকভাবে কঠিন ছিল, কারণ পুরো দল ঘটনাটিতে প্রভাবিত হয়েছে।
তবু হন্ডুরাস ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকও দেখেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তার মতে, প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের জায়গা পাওয়ার জন্য লড়াই করছে, তাই ম্যাচটি সহজ ছিল না। আর্জেন্টিনা নিজেদের খেলা খেলতে চেয়েছে, সবাইকে সময় দেওয়া গেছে—এটাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। নিকো পাজ এখন প্রস্তুত, হুলিয়ানের গোড়ালির অস্বস্তি কমানোর চেষ্টা চলছে, তবে কোনো কিছুতে তাড়াহুড়া করতে চান না তিনি।
হন্ডুরাসের বিপক্ষে ম্যাচে কয়েকজন তরুণও সুযোগ পেয়েছেন। সান্তিয়াগো বেলত্রান, হোয়াকিন ফ্রেইতাস ও তোমাস আরান্দার অভিষেক নিয়ে খুশি স্কালোনি। তার মতে, এই তরুণরা অনুশীলনে ভালো করেছে এবং ভবিষ্যতে অবদান রাখতে পারে। বিশেষ করে আরান্দার আত্মবিশ্বাস ও বল চাওয়ার মানসিকতা কোচের নজর কেড়েছে।
আর্জেন্টিনার জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আইসল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। সেটির পরই বোঝা যাবে বালেরদির বদলি হিসেবে কাকে নেওয়া হবে, কিংবা চোটের কারণে স্কোয়াডে আরও কোনো পরিবর্তন আনতে হবে কি না।
