Advertisement

ভিসা জটিলতার মাঝেই ইরান দলকে নতুন ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ভিসা জটিলতার মাঝেই ইরান দলকে নতুন ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ভিসা ও যাতায়াত জটিলতায় থাকা ইরান দলের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মেক্সিকোর তিহুয়ানায় অনুশীলন করা ইরানের ফুটবলাররা বিশ্বকাপে নিজেদের তিনটি ম্যাচের প্রতিটির আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান দলকে ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে ম্যাচ শেষে একই দিন ফিরে যেতে হতে পারে। এমন হলে প্রস্তুতি, বিশ্রাম, যাতায়াত ও ম্যাচ-পূর্ব রুটিন নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হতো। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ম্যাচের আগের দিন ভেন্যুতে থাকা, শেষ অনুশীলন, টিম মিটিং এবং রিকভারি—সবকিছুই পারফরম্যান্সের অংশ।

তবে ডিএইচএসের এক মুখপাত্র সেই খবর অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইরান দলকে একই দিনে আসা-যাওয়ার বাধ্যবাধকতায় রাখা হচ্ছে না। বরং তারা ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে।

ইরান দল বর্তমানে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ঘাঁটি গেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ থাকলেও তারা পুরো টুর্নামেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে না। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত টানাপোড়েনের মধ্যেই তাদের প্রস্তুতি পরিকল্পনা বদলাতে হয়েছে।

রয়টার্সকে ইরানের মেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহ জানিয়েছেন, যেসব ভিসা দেওয়া হয়েছে, তাতে নির্দিষ্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কোনো বাধ্যবাধকতার কথা নেই। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ভিসা পাননি।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের দাবি, দলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সদস্যকে ভিসা দেওয়া হয়নি। ইরানের মেক্সিকো দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে আছেন টিম ম্যানেজার, দুই বিশ্লেষক, মিডিয়া ডিরেক্টর এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি।

গত শুক্রবার ইরানের সব ফুটবলারকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়। সেটি আসে তাদের প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর ফুটবলারদের ভিসা মিললেও সাপোর্ট স্টাফ ও প্রশাসনিক সদস্যদের জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি।

বিশ্বকাপে ইরানের প্রথম ম্যাচ ১৫ জুন, লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৬ জুন, সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে।

বিশ্বকাপের আগে ইরান দলের এই যাতায়াত ও ভিসা পরিস্থিতি টুর্নামেন্টের প্রশাসনিক বাস্তবতাকেও সামনে এনেছে। মাঠে খেলবে দল, কিন্তু মাঠে নামার আগে সীমান্ত, ভিসা, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সম্পর্কও এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের জন্য আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তি ম্যাচের দিন তড়িঘড়ি সীমান্ত পেরিয়ে মাঠে নামতে হবে না। তবে পুরো দলীয় কাঠামো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা না থাকায় বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাদের প্রস্তুতিতে অস্বস্তি থেকে যাচ্ছে।