বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল দলে পরিবর্তন

বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে হলো ব্রাজিলকে। চোটের কারণে রোমার ফুলব্যাক ওয়েসলি ছিটকে যাওয়ায় তাঁর জায়গায় দলে ডাকা হয়েছে আতালান্তার মিডফিল্ডার এদেরসনকে।
রোববার ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে, এমআরআই পরীক্ষায় ওয়েসলির বাঁ ঊরুর অ্যাডাক্টর পেশিতে চোট ধরা পড়েছে। এই চোটের কারণে ২২ বছর বয়সী ডিফেন্ডারের বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না।
ওয়েসলির বদলি হিসেবে ডাক পাওয়া ২৬ বছর বয়সী এদেরসন এখন পর্যন্ত ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিল দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর।
আতালান্তার এই মিডফিল্ডারকে নিয়ে ক্লাব ফুটবলেও চলছে বড় আলোচনা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে তাঁর দলবদল নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে আতালান্তা। ৪০.৫ মিলিয়ন ইউরো নির্দিষ্ট ফি এবং আরও ৪.৫ মিলিয়ন ইউরো অ্যাড-অনসের চুক্তিতে তাঁর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে যাওয়ার কথা। তার আগেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেলেন তিনি।
ব্রাজিলের জন্য ওয়েসলির চোট ব্যক্তিগতভাবে যেমন বড় ধাক্কা, তেমনি কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনাতেও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ওয়েসলি ছিলেন ডান প্রান্তের রক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প, এমনকি তাঁকে শুরুর একাদশেও দেখা যেতে পারত। তাঁর অনুপস্থিতিতে ডানব্যাক পজিশনে আনচেলত্তির হাতে মূলত দুই বিকল্প—দানিলো ও রজার ইবানিয়েস।
দানিলো অভিজ্ঞ এবং ড্রেসিংরুমে প্রভাবশালী হলেও বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর বয়স ৩৫-এ পৌঁছাবে। ক্লাব পর্যায়ে ফ্লামেঙ্গোতেও তিনি এখন নিয়মিত প্রথম পছন্দ নন। অন্যদিকে রজার ইবানিয়েস মূলত সেন্টারব্যাক, তবে গতির কারণে প্রয়োজনে ফুলব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন। তিনি এখন সৌদি আরবের আল আহলিতে খেলেন।

তবে ওয়েসলির চোট আনচেলত্তিকে স্কোয়াডের ভারসাম্য নতুন করে সাজানোর সুযোগও দিয়েছে। ব্রাজিলের প্রাথমিক স্কোয়াডে স্বাভাবিক মিডফিল্ডার ছিলেন মাত্র পাঁচজন—ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, দানিলো, ফাবিনিও ও লুকাস পাকেতা। অন্যদিকে ডিফেন্ডার ছিলেন নয়জন এবং আক্রমণভাগেও ছিল সমান সংখ্যক খেলোয়াড়।
এদেরসনকে ডেকে সেই ভারসাম্য কিছুটা ঠিক করলেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলের পরিকল্পনায় এখনো ৪-২-৪ ফরমেশনই মূল ভাবনায় থাকলেও বড় দলের বিপক্ষে মাঝমাঠে তিনজন খেলানোর আলোচনা বাড়ছে। এদেরসনের উপস্থিতি সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত করতে পারে।
আতালান্তায় এদেরসন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শক্তিশালী, গতিশীল ও বল জেতায় দক্ষ মিডফিল্ডার হিসেবে। মাঝমাঠে তাঁর প্রেসিং, বল দখল এবং বক্স টু বক্স চলাচল ব্রাজিলকে ভিন্ন মাত্রা দিতে পারে। বিশেষ করে নকআউটের মতো ম্যাচে, যেখানে শুধু আক্রমণ নয়, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণও বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়।
ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলবে গ্রুপ সি-তে। ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর ২০ জুন হাইতি এবং ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আনচেলত্তির দল।
