আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ফাইনালে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন।
বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন তোরেস। এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। পঞ্চম মিনিটেই লামিন ইয়ামালের শট ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এরপরও বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ চালিয়ে যায় ইউরোপের চ্যাম্পিয়নরা। বিপরীতে মেসি ও জুলিয়ান আলভারেজকে বিচ্ছিন্ন করে রাখায় প্রথমার্ধে কোনো শটই নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তার জায়গায় নামানো হয় নিকোলাস ওতামেন্দিকে। বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। স্পেনের আক্রমণের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে একের পর এক সেভ করতে থাকেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মার্তিনেজ।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার বিপদ আরও বাড়ে। ৯০+৩ মিনিটে পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। পাঁচ মিনিট পর ইয়ামালের বাঁকানো ফ্রি কিক অসাধারণভাবে ফিরিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান মার্তিনেস।
অতিরিক্ত সময়ের ৯৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও মিকেল মেরিনোর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনাতেও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
তবে দ্বিতীয় অতিরিক্তার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৩৭ সেকেন্ডের মধ্যে আর স্পেনকে আটকাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। পেদ্রো পোরোর ক্রস হেডে তোরেসের জন্য নামিয়ে দেন নিকো উইলিয়ামস। বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালের ছাদে পাঠিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন তোরেস।
১১৪ মিনিটে আবারও বল জালে পাঠিয়েছিলেন তোরেস। তবে এবার অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। শেষদিকে মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। ১১৭ মিনিটে ম্যাচে নিজেদের প্রথম শট নেন মেসি, কিন্তু সেটি শরীর দিয়ে আটকে দেন মেরিনো। যোগ করা সময়ে জিউলিয়ানো সিমিওনের সামনে সমতার সুবর্ণ সুযোগ এলেও তাঁর শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
শেষ পর্যন্ত এক গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্পেন। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতল তারা। একই সময়ে পুরুষ ও নারী ফুটবলের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রথম দেশও এখন স্পেন। অন্যদিকে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ হারাল আর্জেন্টিনা
.png)






