logo
Advertisement

হ্যাটট্রিকের পেছনে ছিল মেসির গোপন প্রস্তুতি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
হ্যাটট্রিকের পেছনে ছিল মেসির গোপন প্রস্তুতি
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক দেখে অনেকের কাছেই মনে হতে পারে, সবকিছু যেন স্বাভাবিক। বড় মঞ্চ, মেসি, গোল, রেকর্ড—ফুটবলের পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু কানসাসের সেই ঐতিহাসিক রাতের পেছনে ছিল কয়েক মাসের পরিকল্পিত প্রস্তুতি।

Advertisement

আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে তিন গোল করে পুরুষ বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন মেসি। ছুঁয়েছেন মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বকালের পুরুষ বিশ্বকাপ গোলরেকর্ড। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম ম্যাচে এমন পারফরম্যান্সের পর মেসি নিজেই জানালেন, বিশ্বকাপে সেরা অবস্থায় আসার জন্য অনেক দিন ধরেই তিনি নিজেকে তৈরি করছিলেন।

মেসি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে সেরা অবস্থায় পৌঁছানোর জন্য আমি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।’ কথাটা ছোট, কিন্তু এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে তার সাম্প্রতিক মাসগুলোর গল্প। ইন্টার মায়ামির হয়ে সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি তার মাথায় ছিল আরেকটি লক্ষ্য ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নিজের সেরা সংস্করণ নিয়ে নামা।

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করার পর থেকেই মেসি নিজের প্রস্তুতিকে আলাদা গুরুত্ব দেন। ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ততার মধ্যেও ফিটনেস, রিকভারি, শরীরের চাপ সামলানো এবং ম্যাচের তীব্রতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কাজ চলেছে পরিকল্পনা ধরে। ৩৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে টিকে থাকতে শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়; শরীরকেও প্রস্তুত রাখতে হয়।

কারণ মেসি জানতেন, শুধু বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তার লক্ষ্য নয়। তিনি বড় মঞ্চে নামবেন মানে প্রভাব রাখতে চান। আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। কাতারের সাফল্যের পর উত্তর আমেরিকায় শিরোপা ধরে রাখার চাপও আছে। সেই চাপের কেন্দ্রে আবারও মেসি।

বিশ্বকাপের আগে অবশ্য তার প্রস্তুতিতে ধাক্কাও এসেছিল। বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ে পেশির ক্লান্তির কারণে তাকে নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ইন্টার মায়ামির ম্যাচে মাঠ ছাড়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা আসে, আর্জেন্টিনা শিবিরও অপেক্ষায় ছিল পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়। তবে চোট গুরুতর না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা ভাঙেনি।

মেসি বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে ফেরেন। এরপর আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই দেখা গেল সেই প্রস্তুতির ফল। ১৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে প্রথম গোল। ৬০ মিনিটে গোলরক্ষক লুকা জিদানের ভুল কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গোল। ৭৬ মিনিটে নিজের চেনা ভঙ্গিতে বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।

এই হ্যাটট্রিক শুধু একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স নয়। এটি প্রমাণ করেছে, বয়স ৩৮ হলেও মেসি এখনো নিজেকে বড় প্রতিযোগিতার জন্য নতুন করে তৈরি করতে জানেন। শুধু প্রতিভা নয়, শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা ও শরীরের যত্ন—সব মিলিয়েই তিনি এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন।

কোচ লিওনেল স্কালোনি ও সতীর্থদের কথাতেও বারবার এসেছে, মেসি এখনো দলের প্রাণ। রদ্রিগো দি পলও ম্যাচের পর তার নেতৃত্ব ও দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কথা বলেছেন। ২০০তম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে মেসি যেন সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন, তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে অপেক্ষা করতে হয় মাঠের উত্তরের জন্য।


কানসাসের রাত তাই কেবল জাদুর রাত নয়। এটি মেসির পরিকল্পনার রাত। কয়েক মাস ধরে নিজেকে প্রস্তুত করা, চোটের ধাক্কা সামলে ওঠা, শরীরকে বিশ্বকাপের জন্য তৈরি করা—সবকিছুর ফল মিলল এক ম্যাচেই।

মেসির গল্প অনেকবার শেষ ভেবেছে ফুটবল। কিন্তু আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর আবারও বোঝা গেল, গল্পটা এখনো চলছে। আর এবারও সেই গল্পের শুরু হয়েছে পরিকল্পনা দিয়ে, শেষ হয়েছে ইতিহাসে।