সুইসদের জয় কেড়ে নিয়ে কাতারের ইতিহাস

বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টের জন্য কাতারকে অপেক্ষা করতে হলো ৯৩ মিনিট পর্যন্ত। পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ আর সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি তারা। যোগ করা সময়ে বুয়ালেম খুখির গোলে সুইসদের ১-১ ব্যবধানে রুখে দিয়েছে কাতার। আর এতেই নিজেদের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পেল মরুর দেশটি।
ম্যাচটা অনেকক্ষণ ধরেই ছিল সুইজারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে। বল ছিল তাদের পায়ে, সুযোগও তৈরি করেছে তারাই বেশি। কিন্তু বিশ্বকাপে শুধু নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়। সুযোগ নষ্টের মাশুল শেষ পর্যন্ত দিতে হলো সুইসদের। যোগ করা সময়ের গোলে সুইজারল্যান্ডকে ১-১ ব্যবধানে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট পেল কাতার।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারার লিভাইস স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘বি’র ম্যাচে শুরু থেকেই চাপ তৈরি করে সুইজারল্যান্ড। ব্রিল এমবলো, ড্যান এনডয় ও রুবেন ভারগাসদের গতিতে বারবার অস্বস্তিতে পড়ে জুলেন লোপেতেগির দল।
১৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড। কাতার গোলকিপার মাহমুদ আবুনাদা বক্সে রেমো ফ্রয়লারকে ফাউল করলে স্পটকিকের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। পেনাল্টির আগে অফসাইড ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ১৭ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন এমবলো।
গোলের পর মনে হচ্ছিল, সুইজারল্যান্ড হয়তো সহজ জয়ই পেতে যাচ্ছে। মাঝমাঠে গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়লাররা বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিলেন। রক্ষণ থেকে মানুয়েল আকানজি বারবার আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করছিলেন। ম্যাচজুড়ে সুইসদের সবচেয়ে সক্রিয় খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন তিনি।
কিন্তু গোলের পর সুইজারল্যান্ডের খেলায় প্রয়োজনীয় ধার আর দেখা যায়নি। বল দখলে আধিপত্য থাকলেও শেষ কাজটা ঠিকমতো করতে পারেনি তারা। এনডয় সুযোগ নষ্ট করেন, ভারগাস একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। বদলি নামা জোহান মানজাম্বি ও ফাবিয়ান রিডার কিছুটা গতি আনলেও দ্বিতীয় গোল আর আসেনি।
কাতার বেশির ভাগ সময়ই রক্ষণে আটকে ছিল। আক্রমণে তেমন ছন্দ ছিল না, আকরাম আফিফও নিজের সেরা প্রভাব রাখতে পারেননি। এডমিলসন জুনিয়র কয়েকবার বিপদ তৈরি করলেও সুইস রক্ষণকে নিয়মিত ভাঙতে পারেনি লোপেতেগির দল। তবু তারা ম্যাচে ছিল, কারণ সুইজারল্যান্ড দ্বিতীয় গোলটি করতে পারেনি।
আর সেই সুযোগই শেষ মুহূর্তে কাজে লাগাল কাতার। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে হোমাম আহমেদের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন বুয়ালেম খুখি। পুরো ম্যাচে খুব বেশি সুযোগ না পেলেও সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে গোলটি করে বসেন কাতারের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। সুইজারল্যান্ড তখন আর ঘুরে দাঁড়ানোর সময় পায়নি।
এই ড্র কাতারের জন্য ঐতিহাসিক। ২০২২ সালে নিজেদের মাটির বিশ্বকাপে তিন ম্যাচেই হারতে হয়েছিল তাদের। এবার প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল তারা। খেলার মান যেমনই হোক, কাতারের জন্য ফলটা বড়।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের জন্য এটি বড় হতাশা। ম্যাচের বড় সময় নিয়ন্ত্রণে রেখে, ২৬ শট নিয়েও জয় না পাওয়া গ্রুপের হিসাব জটিল করে দিতে পারে। বিশেষ করে এমন ম্যাচে, যেখানে তারা শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল এবং প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় নিজের অর্ধে আটকে রেখেছিল।
গ্রুপ ‘বি’র লড়াই তাই শুরুতেই খোলা হয়ে গেল। সুইজারল্যান্ডের কাছে এটি দুই পয়েন্ট হারানোর ম্যাচ, আর কাতারের কাছে ইতিহাস গড়ার রাত।
