logo
Advertisement

হ্যান্ডবলের অভিযোগ, তবু কেন বাতিল হয়নি এমবাপ্পের গোল

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
হ্যান্ডবলের অভিযোগ, তবু কেন বাতিল হয়নি এমবাপ্পের গোল
কিলিয়ান এমবাপ্পের সেই গোল। ছবি: সংগৃহীত

কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ফ্রান্স এগিয়ে যেতেই আর্জেন্টাইন রেফারি ফাকুন্দো তেয়োকে ঘিরে ধরেছিলেন মরক্কোর খেলোয়াড়রা। তাদের অভিযোগ ছিল, গোলের আক্রমণ তৈরির আগে ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিওর হাতে বল লেগেছিল। প্রতিটি গোলের মতো ঘটনাটি পরীক্ষা করে ভিডিও সহকারী রেফারি। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

Advertisement

তবে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কেন বাতিল হলো না গোলটি?

রেফারিং বিশেষজ্ঞ ও ফুটবলের নিয়ম প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাবিওর হাতে বল লাগার ঘটনাটি এমবাপ্পের গোলের দিকে নিয়ে যাওয়া সরাসরি আক্রমণপর্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়নি। এর মধ্যে খেলার পরিস্থিতি বদলে গিয়ে নতুন আক্রমণ তৈরি হয়েছিল। তাই আগের স্পর্শটি ধরে গোল বাতিলের সুপারিশ করেনি ভিডিও সহকারী রেফারি।

আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের ভিডিও রেফারিং বিধি অনুযায়ী, গোলের আগে আক্রমণকারী দলের কোনো ফাউল, হ্যান্ডবল বা অফসাইড হয়েছে কি না পরীক্ষা করা যায়। তবে পর্যালোচনা করা হয় গোলের দিকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া আক্রমণপর্ব। প্রয়োজন হলে আক্রমণকারী দল কীভাবে বলের দখল পেয়েছিল, সেটিও এই পরীক্ষার মধ্যে আসতে পারে।

অর্থাৎ কোনো গোলের আগে ঘটা সব ঘটনা সীমাহীনভাবে পেছনে গিয়ে পরীক্ষা করা হয় না। ভিডিও সহকারী রেফারিকে নির্ধারণ করতে হয়, গোলের সরাসরি আক্রমণটি কোথা থেকে শুরু হয়েছিল। টিভি গ্লোবোর রেফারিং বিশ্লেষক পিসি অলিভেইরার মতে, রাবিওর হাতে বল লাগার পরের অংশটি নতুন আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হাতে বল লাগলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ নয়। ফুটবলের আইন অনুযায়ী, খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে হাত বা বাহু দিয়ে বল স্পর্শ করলে কিংবা হাতের অবস্থানের কারণে শরীরকে অস্বাভাবিকভাবে বড় করলে হ্যান্ডবল ধরা হয়।

গোলদাতার ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা কঠোর। কোনো খেলোয়াড় হাত বা বাহু দিয়ে সরাসরি গোল করলে কিংবা নিজের হাতে বল লাগার অব্যবহিত পর গোল করলে, স্পর্শ অনিচ্ছাকৃত হলেও গোল বাতিল হবে।

তবে কোনো সতীর্থের হাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে বল লাগার পর আরেক খেলোয়াড় গোল করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয় হ্যান্ডবল নয়। স্পর্শটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না অথবা হাতের অবস্থান শরীরকে অস্বাভাবিকভাবে বড় করেছিল কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হয়।

এখানে গোলদাতা ছিলেন এমবাপ্পে, রাবিও নন। রাবিওর স্পর্শের পর সরাসরি গোলও হয়নি। দেজিরে দুয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে এমবাপ্পেকে পাস দেন। এরপর ফরাসি অধিনায়ক ডান পায়ের বাঁকানো শটে ইয়াসিন বোনোকে পরাস্ত করেন।

প্রতিটি গোল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা করে ভিডিও সহকারী রেফারি। পরীক্ষায় মাঠের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট ভুলের প্রমাণ পাওয়া গেলে রেফারিকে সিদ্ধান্ত বদলানোর সুপারিশ করা হয়। এই ঘটনায় তেমন কোনো সুপারিশ না আসায় তেয়োর দেওয়া গোলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

মরক্কো অবশ্য সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারেনি। ম্যাচের পর কোচ মোহামেদ উয়াহবি বলেন, রাবিওর হাতে বল লেগেছিল এবং ওই ঘটনায় তার কয়েকজন খেলোয়াড় থেমে গিয়েছিলেন। তবে স্পর্শটি হ্যান্ডবল হিসেবে শাস্তিযোগ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করেননি তিনি।

ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে ম্যাচটি ২-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে।

হ্যান্ডবলের অভিযোগ, তবু কেন বাতিল হয়নি এমবাপ্পের গোল