logo

জর্ডানের ইতিহাস গড়ার ম্যাচে অস্ট্রিয়ার জয়

জর্ডানের ইতিহাস গড়ার ম্যাচে অস্ট্রিয়ার জয়
অস্ট্রিয়া ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ, প্রথম গোল; তবু শেষ পর্যন্ত হাসি নেই জর্ডানের। নিজেদের বিশ্বকাপ অভিষেকে লড়াই করেছে তারা, ইতিহাসও গড়েছে। কিন্তু অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞতা, সেট পিসের শক্তি এবং শেষ দিকের চাপ সামলাতে না পারায় ৩-১ গোলের হার দিয়ে শুরু হলো জর্ডানের বিশ্বকাপ যাত্রা। অন্যদিকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল রালফ রাংনিকের অস্ট্রিয়া।

সান্তা ক্লারার সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে কাগজে-কলমে এগিয়ে ছিল অস্ট্রিয়া। ডেভিড আলাবা, কনরাড লাইমার, মার্সেল সাবিৎসারদের অভিজ্ঞতা এবং রাংনিকের সংগঠিত ফুটবল, সব মিলিয়ে ইউরোপীয় দলটির কাছ থেকে প্রত্যাশাও ছিল বেশি। তবে জর্ডান শুরু থেকেই বুঝিয়ে দেয়, তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি।

মুসা আল-তামারি ও আলি ওলওয়ানদের গতিতে অস্ট্রিয়ার রক্ষণ কয়েকবার চাপে পড়ে। ম্যাচের শুরুর দিকে জর্ডানই বরং পাল্টা আক্রমণে বেশি বিপজ্জনক দেখাচ্ছিল। কিন্তু প্রথম ধাক্কা সামলে অস্ট্রিয়া ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়।

২০ মিনিটে সেই ছন্দেরই পুরস্কার পায় অস্ট্রিয়া। বক্সের বাইরে থেকে রোমানো শ্মিডের জোরালো শট জর্ডান গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবু লাইলাকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। বল জালে যেতেই ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরে অস্ট্রিয়ার উদ্‌যাপন শুরু হয়।

গোল হজমের পরও জর্ডান ভেঙে পড়েনি। বিরতির আগে ওলওয়ান একবার ক্রসবারে বল লাগান, তামারির সঙ্গে সমন্বয়ে আরও সুযোগ তৈরি করেন। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও তাদের খেলায় ভয় ছিল না, ছিল বিশ্বাস।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেই বিশ্বাসের ফল পায় জর্ডান। ৫০ মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে গোল করেন আলি ওলওয়ান। বল নিয়ে এগিয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে দূরের কোণ খুঁজে নেন তিনি। এটি শুধু ম্যাচে সমতা ফেরানো গোল নয়, জর্ডানের ফুটবল ইতিহাসেরও বিশেষ মুহূর্ত। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই প্রথম গোল পেল তারা।

এরপর ম্যাচ হয়ে ওঠে আরও খোলা। অস্ট্রিয়া আবার এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, জর্ডান পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খোঁজে। মার্কো আরনাউতোভিচ একবার বল জালে পাঠালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর হ্যান্ডবলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে অস্ট্রিয়ার চাপ শেষ পর্যন্ত ফল দেয়।

৭৭ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের জালেই বল পাঠান ইয়াজান আল-আরব। জর্ডানের লড়াইয়ের ম্যাচে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ধাক্কা। আত্মঘাতী গোলের পর অস্ট্রিয়া আবার এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে।

শেষ দিকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও জর্ডান আর পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো যোগ করা সময়ের শেষ দিকে হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় অস্ট্রিয়া। অভিজ্ঞ আরনাউতোভিচ ৯০+১১ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন। এরপর আর ফেরার পথ ছিল না জর্ডানের।

ফলটা অস্ট্রিয়ার জন্য স্বস্তির। ম্যাচটা সহজ ছিল না, কিন্তু রাংনিকের দল শেষ পর্যন্ত কাজটা করেছে। বিশ্বকাপে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর জয় দিয়ে শুরু করাটা তাদের জন্য বড় মানসিক শক্তি। গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার পর অস্ট্রিয়াও নিজেদের প্রথম ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেল।

জর্ডানের জন্য হারটা কষ্টের, তবে রাতটা পুরোপুরি হতাশার নয়। প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই তারা গোল করেছে, বড় প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছে এবং অনেক সময় ম্যাচে সমান তালে লড়েছে। শুধু শেষ দিকের ভুল ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি তাদের মূল্য দিতে বাধ্য করেছে।

অস্ট্রিয়া জিতল, কিন্তু জর্ডানও জানিয়ে দিল—বিশ্বকাপে তাদের গল্প এখানেই শেষ নয়।