logo

বিশ্বকাপের চতুর্থ দিনে চার ম্যাচ, নজর নেদারল্যান্ডস-জাপানে

বিশ্বকাপের চতুর্থ দিনে চার ম্যাচ, নজর নেদারল্যান্ডস-জাপানে
নেদারল্যান্ডস ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের চতুর্থ দিনের রাতেও ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে ব্যস্ত সূচি। মাঠে নামছে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, জাপান, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। তবে দিনের সবচেয়ে আলোচিত দুই গল্প আলাদা—নেদারল্যান্ডস বনাম জাপানের লড়াই এবং কুরাসাওর ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিষেক।

বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১১টায় জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামবে কুরাসাও। এরপর রাত পেরিয়ে সোমবার ভোর ২টায় নেদারল্যান্ডস খেলবে জাপানের বিপক্ষে। ভোর ৫টায় আইভরি কোস্টের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর। দিনের শেষ ম্যাচে সকাল ৮টায় সুইডেনের মুখোমুখি হবে তিউনিসিয়া।

দিনের সূচি, বাংলাদেশ সময়

জার্মানি বনাম কুরাসাও

রাত ১১টা, হিউস্টন স্টেডিয়াম

নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান

রাত ২টা, ডালাস স্টেডিয়াম

আইভরি কোস্ট বনাম ইকুয়েডর

ভোর ৫টা, ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম

সুইডেন বনাম তিউনিসিয়া

সকাল ৮টা, এস্তাদিও মন্টেরেই

সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ নেদারল্যান্ডস-জাপান

চতুর্থ দিনের সবচেয়ে বড় লড়াই নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান। একদিকে তিনবারের বিশ্বকাপ রানার্সআপ নেদারল্যান্ডস, অন্যদিকে এশিয়ার সবচেয়ে সংগঠিত ও বিপজ্জনক দলগুলোর একটি জাপান। গ্রুপ ‘এফ’-এর এই ম্যাচ শুধু দুই দলের শুরু নয়, পুরো গ্রুপের গতিপথও প্রভাবিত করতে পারে।

নেদারল্যান্ডস ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে। কিন্তু এখনো শিরোপা জেতা হয়নি। রোনাল্ড কোম্যানের দল এবার নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। ভার্জিল ফন ডাইক, ফ্রেঙ্কি দি ইয়ং, মেম্ফিস ডিপাই, কডি গাকপো, তিজানি রেইন্ডার্সদের নিয়ে ডাচরা নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তবে কোম্যান জানেন, প্রথম ম্যাচেই জাপানের মতো দলের বিপক্ষে ভুল করার সুযোগ নেই।

জাপানকে হালকা করে দেখার সুযোগও নেই। ২০২২ বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্বে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছিল। হাজিমে মোরিয়াসুর দল এখন আর শুধু লড়াকু আন্ডারডগ নয়; তারা বল ধরে খেলতে পারে, দ্রুত ট্রানজিশনে যেতে পারে এবং বড় দলের ভুলের অপেক্ষা করতে জানে।

তবে জাপানের জন্য বড় ধাক্কা অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দোর অনুপস্থিতি। চোটের কারণে তিনি বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন। তার আগেই চোটে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন কাওরু মিতোমা ও তাকুমি মিনামিনোও। তবু তাকেফুসা কুবো, দাইচি কামাদা, জুনিয়া ইতো ও আয়াসে উয়েদাদের মতো ফুটবলাররা ডাচ রক্ষণকে ব্যস্ত রাখতে পারেন।

পূর্বাভাসে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে। Opta সুপারকম্পিউটার এই ম্যাচে ডাচদের জয়ের সম্ভাবনা দিয়েছে ৪৯.০ শতাংশ। জাপানের জয়ের সম্ভাবনা ২৫.৮ শতাংশ, আর ড্রয়ের সম্ভাবনা ২৫.৩ শতাংশ। অর্থাৎ কাগজে-কলমে নেদারল্যান্ডস ফেভারিট হলেও ম্যাচটি একতরফা হওয়ার কথা নয়।

কুরাসাওর ঐতিহাসিক অভিষেক

দিনের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়বে কুরাসাও। মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার ক্যারিবিয়ান দ্বীপদেশটি বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া সবচেয়ে ছোট দেশ। তাদের প্রতিপক্ষ আবার চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

কুরাসাওর জন্য ম্যাচটি ফলের চেয়েও বড়, বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পরিচয় দেওয়ার দিন। ডাচ ফুটবল-ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক আছে। দলের অনেক খেলোয়াড়ই নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বা ডাচ ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। অভিজ্ঞ কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের অধীনে তারা শৃঙ্খলিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ও দলীয় সংহতির ওপর ভরসা করছে।

অ্যাডভোকাট নিজেও ইতিহাসের সামনে। ৭৮ বছর বয়সে তিনি হতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ। তাঁর বার্তাও পরিষ্কার, কুরাসাও হারানোর কিছু নিয়ে আসেনি। তারা জার্মানির জীবন কঠিন করে তুলতে চায়।

জার্মানির জন্য এটি কাগজে-কলমে একতরফা ম্যাচ। কিন্তু গত দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলটির জন্য শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কুরাসাওর বিপক্ষে শুধু জয় নয়, আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সও দরকার ইউলিয়ান নাগেলসম্যানের দলের।

পূর্বাভাসে জার্মানি বিশাল ফেভারিট। Opta-র হিসাবে জার্মানির জয়ের সম্ভাবনা ৯০.৭ শতাংশ, কুরাসাওর ৩.৬ শতাংশ, আর ড্রয়ের সম্ভাবনা ৫.৭ শতাংশ। তবু বিশ্বকাপ বারবার দেখিয়েছে, ছোট দলের গল্প কখনো কখনো বড় দলের পরিকল্পনা বদলে দিতে পারে।

আইভরি কোস্ট-ইকুয়েডর, সবচেয়ে ব্যালান্সড ম্যাচ?

ভোর ৫টার ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে ইকুয়েডর। এই ম্যাচটি দিনের সবচেয়ে ব্যালান্সড লড়াই হতে পারে। আইভরি কোস্ট আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী শক্তি, আর ইকুয়েডর সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে কঠিন ও সংগঠিত দলগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

ইকুয়েডরকে অনেকে এই বিশ্বকাপের ডার্ক হর্সদের মধ্যে রাখছেন। তাদের রক্ষণ শক্ত, ট্রানজিশন দ্রুত এবং শারীরিক উপস্থিতি ভালো। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের শক্তি গতি, শারীরিকতা ও আক্রমণের বৈচিত্র্যে। এই ম্যাচে ছোট ভুলও বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

পূর্বাভাসেও দুই দলের ব্যবধান খুব কম। আইভরি কোস্টের জয়ের সম্ভাবনা ৩৭.৫ শতাংশ, ইকুয়েডরের ৩৫.২ শতাংশ। ড্রয়ের সম্ভাবনা ২৭.৩ শতাংশ। অর্থাৎ এই ম্যাচে যে কোনো ফলই সম্ভব।

সুইডেনের সামনে তিউনিসিয়া

দিনের শেষ ম্যাচ সুইডেন বনাম তিউনিসিয়া। সুইডেন গত আসরে ছিল না, এবার ফিরেছে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে। আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর ইয়োকেরেসকে ঘিরে আক্রমণে তাদের আশা বড়। তবে তিউনিসিয়া কখনোই সহজ প্রতিপক্ষ নয়। উত্তর আফ্রিকার দলটি সাধারণত রক্ষণে সংগঠিত থাকে, শারীরিক ফুটবল খেলে এবং প্রতিপক্ষের ছন্দ নষ্ট করতে পারে।

পূর্বাভাসে সুইডেন এগিয়ে। তাদের জয়ের সম্ভাবনা ৫১.১ শতাংশ। তিউনিসিয়ার জয়ের সম্ভাবনা ২৩.২ শতাংশ, আর ড্রয়ের সম্ভাবনা ২৫.৭ শতাংশ। অর্থাৎ সুইডেন ফেভারিট হলেও তিউনিসিয়ার জন্য পয়েন্ট নেওয়ার সুযোগ একেবারে কম নয়।

বাংলাদেশের দর্শকের জন্য কোন ম্যাচ দেখবেন?

বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য আজ রাতের সবচেয়ে সুবিধাজনক ম্যাচ জার্মানি-কুরাসাও, কারণ শুরু রাত ১১টায়। যারা রাত জাগতে পারবেন, তাদের জন্য নেদারল্যান্ডস-জাপান মিস করার মতো ম্যাচ নয়। ম্যাচটি শুরু রাত ২টায়, তবে দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা এখানেই সবচেয়ে বেশি।

ভোর ৫টার আইভরি কোস্ট-ইকুয়েডর ম্যাচ হতে পারে ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ের জন্য আকর্ষণীয়। আর সকাল ৮টার সুইডেন-তিউনিসিয়া অফিস বা ক্লাসের আগে সবার পক্ষে দেখা কঠিন হলেও ফল গ্রুপ ‘এফ’-এর হিসাব বদলে দিতে পারে।

বিশ্বকাপের চতুর্থ দিন তাই শুধু বড় দলের মাঠে নামার দিন নয়। এটি ইতিহাস, সতর্কতা ও সম্ভাব্য অঘটনের দিন। নেদারল্যান্ডস পরীক্ষা দেবে জাপানের বিপক্ষে, জার্মানি চাইবে দাপুটে শুরু, আর কুরাসাও বিশ্বকে জানাতে চাইবে, তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি, নিজেদের গল্প লিখতেও এসেছে।