Advertisement

চোটের অন্ধকার পেরিয়ে বিশ্বকাপের সেরা রদ্রি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
চোটের অন্ধকার পেরিয়ে বিশ্বকাপের সেরা রদ্রি
রদ্রি। ছবি: ফিফা

একসময় ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখরে ছিলেন রদ্রি। ২০২৪ সালে জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর। এরপরই ভয়াবহ চোটে ছিটকে পড়েন মাঠের বাইরে। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতলেন এই মিডফিল্ডার।

রোববার নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠেই নিজের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেন রদ্রি।

২০২৪ সালে ডান হাঁটুর অগ্রবর্তী ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় প্রায় আট মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। ফিরে আসার পরও কয়েকটি ছোটখাটো চোটে ভুগতে হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডারকে।

বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে নিয়ে রদ্রি বলেন, একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর একেবারে নিচেও নেমে যেতে পারেন। তবে কঠোর পরিশ্রম করলে জীবন শেষ পর্যন্ত তার প্রতিদান দেয়।

নিজেকে ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ হিসেবেও দেখছেন স্পেনের এই তারকা।

রদ্রি বলেন, ‘আমি প্রতিকূলতা জয় করার একটি উদাহরণ। অনেক মানুষ হয়তো আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে না, তবু স্পেনের মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা আমি অনুভব করেছি।’

ফাইনালে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে স্পেন। ম্যাচের প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল তাদের। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১৫টি শট নেয় স্প্যানিশরা, যার ১০টিই ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

অতিরিক্ত সময়েও আক্রমণ অব্যাহত রাখে স্পেন। শেষ পর্যন্ত ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের পাস থেকে ফেরান তোরেস গোল করলে শিরোপা নিশ্চিত হয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের।

দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতাকেই সাফল্যের মূল কারণ মনে করেন রদ্রি।

তিনি বলেন, ‘এই দলের রহস্য হলো, প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন, আমরা জয়ের জন্য সামনে এগিয়ে যাই। জীবনে সাহস প্রয়োজন এবং জীবন সেই সাহসের পুরস্কার দেয়।’

বিশ্বকাপ জয়কে নিজের ক্যারিয়ারের অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত হিসেবেও বর্ণনা করেন রদ্রি। সতীর্থদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এই দলটি অসাধারণ। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কথাটি বলতেই অবিশ্বাস্য লাগছে। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রতিযোগিতা ছিল। আর্জেন্টিনার দলে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন, তারপরও আমরা সব রেকর্ড ভেঙেছি।’

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের আটটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন রদ্রি। পুরো টুর্নামেন্টে সাড়ে ছয় শর বেশি সফল পাস দিয়েছেন তিনি, যা বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ। তার পাসের সফলতার হার ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ।

মাঝমাঠে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, বলের দখল ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানোর ক্ষেত্রে স্পেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন রদ্রি। দুর্দান্ত সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবেই লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। ১৬ বছর পর দ্বিতীয় শিরোপা জিতে উরুগুয়ে ও ফ্রান্সের পাশে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দলটি।