সুযোগ নষ্টের রাতে বিশ্বকাপ শেষ তুরস্কের

একজন কম নিয়ে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ খেলেও জয় তুলে নিল প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’ ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন মাতিয়াস গালারসা, সেটিও ম্যাচ শুরুর মাত্র ৬৫ সেকেন্ডে। এই হারে এক ম্যাচ হাতে থাকতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো তুরস্কের।
সান্তা ক্লারার সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে শুরুতেই ধাক্কা খায় তুরস্ক। জুলিও এনসিসোর ফ্লিকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে নিচের কোণে বল জালে পাঠান গালারসা। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এটিই দ্রুততম গোল। ম্যাচের শুরুতেই পাওয়া সেই গোল শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ের জয়ের গোল হয়ে থাকে।
প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল প্যারাগুয়ে। তাই তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল টিকে থাকার লড়াই। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হার দিয়ে শুরু করা তুরস্কও জয় ছাড়া কিছু ভাবতে পারছিল না। কিন্তু ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল খেয়ে ভিনচেঞ্জো মনতেলার দল চাপে পড়ে যায়।
গোলের পর তুরস্ক বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। হাকান চালহানওলুর সেট-পিস থেকে মেরিহ দেমিরালের হেড পোস্টে লাগে। আরদা গুলের, কেনান ইলদিজ ও মের্ত মুলদুররা একাধিকবার প্যারাগুয়ে রক্ষণে চাপ তৈরি করেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত ও ফিনিশিংয়ে ঘাটতি থেকে যায়।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে আসে বড় ঘটনা। তুরস্কের ডিফেন্ডার মুলদুরের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলায় ভিএআরের পর সরাসরি লাল কার্ড দেখেন প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরোন। নতুন নিয়মে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে কিছু বলার ঘটনায় এই লাল কার্ড বিশ্বকাপের বড় আলোচনায় পরিণত হয়েছে।
আলমিরোনের লাল কার্ডের পর মনে হচ্ছিল দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্ক ম্যাচে ফিরতে পারে। কিন্তু ১০ জনের প্যারাগুয়ে রক্ষণ আরও গুছিয়ে ফেলে। অরলান্দো গিল গোলপোস্টে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। গুস্তাভো গোমেজ ও ওমার আলদেরেতে বক্সের ভেতর একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্ক একের পর এক আক্রমণ করলেও গোলের দেখা পায়নি। মুলদুরের হেড, দেমিরালের সুযোগ, জান উজুনের শট, সবকিছুই হয় অল্পের জন্য বাইরে গেছে, নয়তো প্যারাগুয়ে রক্ষণ বা গোলরক্ষক গিল তা ঠেকিয়েছেন। শেষ দিকে আরদা গুলেরও ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু সেটিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
যোগ করা সময়ে তুরস্কের শেষ বড় সুযোগ এসেছিল দেমিরালের হেডে। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রসে উঠে হেড করেছিলেন তিনি, কিন্তু বল পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে যায় তুরস্কের ফেরার আশা।
এই জয়ে দুই ম্যাচে প্যারাগুয়ের পয়েন্ট হলো ৩। প্রথম ম্যাচে বড় হারের পর এই জয় তাদের শেষ ৩২-এর দৌড়ে ফিরিয়ে আনল। গ্রুপ ‘ডি’-তে যুক্তরাষ্ট্র ৬ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে। অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে দুদলেরই পয়েন্ট ৩। তুরস্ক দুই ম্যাচ শেষে শূন্য পয়েন্টেই রইল।
তুরস্কের জন্য পরের ম্যাচ এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে হারালেও তাদের পয়েন্ট হবে ৩। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া-প্যারাগুয়ে ম্যাচ ড্র হলে দুই দলই ৪ পয়েন্টে যাবে। আর ওই ম্যাচে কোনো দল হারলেও তুরস্ক তিন পয়েন্টে সেই দলের সঙ্গে সমতায় উঠতে পারবে মাত্র। ২০২৬ বিশ্বকাপের টাইব্রেকারে আগে মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাব ধরা হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে, দুদলের কাছেই হেরে যাওয়া তুরস্ক আর তৃতীয় স্থানেও উঠতে পারবে না।
