logo
Advertisement

২০তম বিশ্বকাপ ম্যাচে রেকর্ডের সামনে নয়্যার

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
২০তম বিশ্বকাপ ম্যাচে রেকর্ডের সামনে নয়্যার
ম্যানুয়েল নয়ার। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হচ্ছে কুরাসাওর বিপক্ষে। তবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রথম ম্যাচে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাবই থাকবে না। নজর থাকবে ম্যানুয়েল নয়্যারের দিকেও। কারণ, এই ম্যাচেই বিশ্বকাপের একাধিক গোলকিপিং রেকর্ডের আরও কাছে যেতে পারেন জার্মানির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

Advertisement

রোববার (১৪ জুন) হিউস্টনের রিলায়েন্ট স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘ই’র ম্যাচে কুরাসাওর বিপক্ষে মাঠে নামবে জার্মানি। এই ম্যাচে খেললে নয়্যারের হবে বিশ্বকাপে ২০তম ম্যাচ। তাতে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলরক্ষকদের তালিকায় ফ্রান্সের হুগো লরিসকে ছুঁয়ে ফেলবেন ৪০ বছর বয়সি এই জার্মান।

নয়্যারের সামনে আছে আরেকটি বড় সুযোগও, ক্লিন শিটের রেকর্ডে এগিয়ে যাওয়া। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে গোল খাননি তিনি। কুরাসাওর বিপক্ষে গোলবার অক্ষত রাখতে পারলে তার ক্লিন শিট হবে ৮টি। তাতে তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন ব্রাজিলের ক্লদিও তাফারেল ও এমারসন লেয়াও, পশ্চিম জার্মানির সেপ মাইয়ার, নেদারল্যান্ডসের ইয়ান ইয়ংব্লুড এবং ফ্রান্সের হুগো লরিসকে।

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ক্লিন শিটের রেকর্ড যৌথভাবে ফ্রান্সের ফাবিয়াঁ বার্তেজ ও ইংল্যান্ডের পিটার শিলটনের। দুজনই ১০ ম্যাচে গোল খাননি। অর্থাৎ কুরাসাওর বিপক্ষে ক্লিন শিট পেলে নয়্যার সেই সর্বকালের রেকর্ডের আরও কাছে চলে যাবেন।

নয়্যারের এই বিশ্বকাপে ফেরা নিজেই আলাদা গল্প। ২০২৪ ইউরোর পর তিনি জার্মানি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলেন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফিরেছেন জাতীয় দলে। কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যান তাকে শুধু স্কোয়াডেই নেননি, আবারও জার্মানির এক নম্বর গোলরক্ষকও বানিয়েছেন।

চোট নিয়েও কিছুটা সংশয় ছিল। মৌসুমের শেষ দিকে কাফ ইনজুরিতে পড়েছিলেন নয়্যার। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে জার্মানির হয়ে মাঠে ছিলেন না তিনি। তবু নাগেলসম্যান শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখেছেন।

এই সিদ্ধান্তে অবশ্য জার্মান শিবিরে কিছুটা অস্বস্তিও ছিল। বাছাইপর্বে এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে গোলবার সামলানো অলিভার বাউমান প্রকাশ্যেই হতাশার কথা বলেছেন। হফেনহাইমের গোলরক্ষক প্রস্তুতির বড় অংশে জার্মানির এক নম্বর হিসেবে ছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের শুরুতেই জায়গা ফিরে পেয়েছেন নয়্যার।

নাগেলসম্যানের জন্য সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না, তবে নয়্যারের অভিজ্ঞতা ও বড় মঞ্চের মান এখনো জার্মানির কাছে বড় সম্পদ। ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। সেই আসরে তার ‘সুইপার-কিপার’ ভূমিকা গোলকিপিংয়ের ধারণাই বদলে দিয়েছিল।

কুরাসাওর বিপক্ষে ম্যাচটি তাই নয়্যারের জন্য শুধু আরেকটি শুরু নয়, রেকর্ডের দরজায় দাঁড়ানোর ম্যাচও। কাগজে-কলমে জার্মানি ফেভারিট। কিন্তু বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচের চাপ, কুরাসাওর অভিষেক-উদ্দীপনা এবং জার্মানির সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ হতাশা, সব মিলিয়ে ম্যাচটি সহজ ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

জার্মানি ২০১৮ ও ২০২২, টানা দুই বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। এবার তারা শুরুতেই শক্ত বার্তা দিতে চাইবে। কুরাসাওর বিপক্ষে বড় জয় যেমন দলের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে পারে, তেমনি নয়্যারের ক্লিন শিট তাকে ইতিহাসের আরও কাছে নিয়ে যাবে।

গ্রুপ ‘ই’তে জার্মানির অন্য দুই প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডর। কুরাসাও ম্যাচ দিয়ে শুরু, এরপর ২০ জুন আইভরি কোস্ট ও ২৫ জুন ইকুয়েডরের বিপক্ষে খেলবে জার্মানি।

নয়্যারের সামনে তাই দুই লড়াই। এক দিকে জার্মানির হারানো বিশ্বকাপ মর্যাদা ফিরিয়ে আনার মিশন, অন্যদিকে নিজের নাম আরও উঁচুতে তোলার সুযোগ। কুরাসাওকে গোল করতে না দিলে প্রথম ধাপটা পেরিয়ে যাবেন তিনি, লরিস-তাফারেলদের পাশে, আর বার্তেজ-শিলটনের রেকর্ডের আরও কাছে।