পিছিয়ে পড়েও চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

বিশ্বকাপের শুরুটা জয় দিয়েই করল দক্ষিণ কোরিয়া। গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে হং মিউং-বোর দল।
প্রথমার্ধে দক্ষিণ কোরিয়াই ছিল বেশি সংগঠিত ও সৃজনশীল। লি কাং-ইনের বাঁ পায়ের পাস, দূরপাল্লার শট ও আক্রমণ গড়ার ক্ষমতা বারবার চেক রক্ষণকে অস্বস্তিতে ফেলছিল। সন হিউং-মিনও কয়েকবার বিপজ্জনক জায়গায় বল পেয়েছিলেন, তবে শেষ মুহূর্তে নিখুঁত সিদ্ধান্তের অভাবে গোল আসেনি।
চেক প্রজাতন্ত্রের গোলরক্ষক মাতেই কোভারও প্রথমার্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দক্ষিণ কোরিয়া কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও তাঁর সেভে গোল পায়নি। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র নিজেদের পরিচিত শক্তির জায়গা—শারীরিক ফুটবল, সেট পিস ও সরাসরি আক্রমণ—নিয়েই অপেক্ষা করছিল।
বিরতির পর সেই অপেক্ষার ফল পায় চেক প্রজাতন্ত্র। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে লম্বা থ্রো-ইন থেকে বক্সে বল আসে। নিয়ার পোস্টে শক্তিশালী হেডে গোল করেন লাদিস্লাভ ক্রেইচি। ম্যাচের ধারার বিপরীতে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র।
তবে গোল খেয়েও ভেঙে পড়েনি দক্ষিণ কোরিয়া। বরং আরও ধারালো হয়ে ওঠে তাদের আক্রমণ। ৬৭ মিনিটে সমতা ফেরান হোয়াং ইন-বোম। বক্সের ভেতর দারুণ দক্ষতায় কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান ফেয়েনুর্ডের এই মিডফিল্ডার। গোলটির আগে তাঁর নিয়ন্ত্রণ, শরীরের ভারসাম্য ও ফিনিশিং ছিল চোখে পড়ার মতো।
এরপর ম্যাচ আরও জমে ওঠে। চেক প্রজাতন্ত্রের থমাস সৌচেক হেডে বল জালে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। সেই মুহূর্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বড় স্বস্তি হয়ে আসে।
অল্প পরেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন হোয়াং। এবার গোল নয়, অ্যাসিস্ট। তাঁর নিখুঁত পাস থেকে বক্সে বল পান ওহ হিয়ন-গিউ। বদলি নামা ফরোয়ার্ড প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে এগিয়ে দেন। ৮০ মিনিটের সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে।
শেষ দিকে চেক প্রজাতন্ত্রয়া সমতা ফেরাতে সর্বশক্তি দিয়ে চাপ বাড়ায়। দুই পাশ থেকে ক্রস, সেট পিস, লম্বা বল—সব চেষ্টা করেও তারা আর কোরিয়ান রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। কিম মিন-জায়ের নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণ শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন ধরে রাখে।
এই জয়ে বিশ্বকাপ শুরুটা দারুণ হলো দক্ষিণ কোরিয়ার। বিশেষ করে প্রথমে পিছিয়ে পড়ার পর যেভাবে তারা ম্যাচে ফিরে এসেছে, সেটি হং মিউং-বোর দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
হোয়াং ইন-বোমের জন্য রাতটি আরও বিশেষ। বিশ্বকাপের আগে তাঁর ফিটনেস ও ছন্দ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই তিনি হয়ে উঠলেন দলের ত্রাতা। এক গোল, এক অ্যাসিস্ট—গুয়াদালাহারায় দক্ষিণ কোরিয়ার জয়ের পুরো গল্প যেন তাঁর নামেই লেখা।
চেক প্রজাতন্ত্রের জন্য ম্যাচটি হতাশার। ২০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে তারা আগে গোল করেছিল, কিন্তু সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি। তাদের শারীরিক ও সেট-পিস নির্ভর পরিকল্পনা কিছু সময় কাজ করলেও দক্ষিণ কোরিয়ার গতি, মাঝমাঠের সৃজনশীলতা এবং বদলি ওহর প্রভাব সামলাতে পারেনি।
গ্রুপ ‘এ’-তে দিনের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে মেক্সিকো। এরপর চেক প্রজাতন্ত্রয়াকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট তুলে নিল দক্ষিণ কোরিয়াও। গ্রুপের লড়াই তাই শুরুতেই জমে উঠল।
