নকআউটের আগে নেইমারকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম ব্রাজিলের

বিশ্বকাপে নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিলের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচের আগেও পূর্ণ অনুশীলনে ফিরতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা। রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে আর মাঠে নামার সম্ভাবনা কম তার। ব্রাজিলের মেডিকেল স্টাফের লক্ষ্য এখন তাকে নকআউট পর্বে পুরো ফিট অবস্থায় পাওয়া।
ইএসপিএনের বরাত দিয়ে এএস জানিয়েছে, নেইমার এখনও দলের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। নিউইয়র্ক রেড বুলসের অনুশীলনকেন্দ্রে সোমবারও তার অবস্থা নিয়ে সতর্ক ছিল ব্রাজিল শিবির। এক সপ্তাহ আগে যে মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেটিই আবার করানো হয়েছে। তবে পরীক্ষার ফল এখনও ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
৩৪ বছর বয়সি নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে রাখা হয়েছিল চোট নিয়েই। ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় তিনি পায়ের পেছনের মাংসপেশির চোটে পড়েন। পরে তার গ্রেড টু কাফ ইনজুরি ধরা পড়ে। সেই চোটের পর থেকে তিনি পূর্ণ অনুশীলনে ফিরতে পারেননি।
ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে বেঞ্চে ছিলেন নেইমার, তবে ম্যাচের কিট পরা ছিল না তার। অর্থাৎ ম্যাচে নামার মতো অবস্থায় ছিলেন না তিনি। সেই ম্যাচে ব্রাজিল ১-১ গোলে ড্র করে। ইসমাইল সাইবারির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে সমতা ফেরায় কার্লো আনচেলত্তির দল।
ব্রাজিলের সামনে গ্রুপ ‘সি’তে এখন দুটি ম্যাচ বাকি। শুক্রবার হাইতির বিপক্ষে খেলবে তারা। এরপর ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দুই ম্যাচেই নেইমারের খেলার সম্ভাবনা কম। তাকে নিয়ে ঝুঁকি না নিয়ে নকআউট পর্বের জন্য অপেক্ষা করতে পারে ব্রাজিল।
আনচেলত্তি মরক্কো ম্যাচের আগে বলেছিলেন, নেইমার দ্রুত ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন। তার প্রত্যাশা ছিল, পরের সপ্তাহে নেইমার দলে ফিরতে পারেন। তবে নতুন রিপোর্ট বলছে, বাস্তবতা আরও সতর্কতার। চোট পুরোপুরি না সারলে নেইমারকে মাঠে নামিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না ব্রাজিল।
নেইমারকে দলে নেওয়ার ব্যাখ্যায় আনচেলত্তি আগেই বলেছিলেন, তার টেকনিক্যাল সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই। পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ও তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণ হিসেবেও নেইমারকে দরকার ব্রাজিলের। কিন্তু মাঠে নামার মতো ফিটনেস না থাকলে সেই পরিকল্পনা আপাতত অপেক্ষায় থাকছে।
ব্রাজিলের জন্য বিষয়টি সহজ নয়। নেইমার এখন আর আগের মতো প্রতি ম্যাচের নির্ভরতা নন, কিন্তু বড় টুর্নামেন্টে তার অভিজ্ঞতা এখনও মূল্যবান। বিশেষ করে নকআউট পর্বে ম্যাচের ছোট মুহূর্ত, স্থির বলে আক্রমণ, পেনাল্টি বা চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁর উপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে গ্রুপ পর্বে নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যদের জন্যও পরীক্ষা। মরক্কোর বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোল করলেও ব্রাজিলের আক্রমণে ধারাবাহিকতা ছিল না। রাফিনিয়া, ইগর থিয়াগো, লুকাস পাকেতাদের আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ তাই শুধু তিন পয়েন্টের নয়, নেইমার ছাড়া ব্রাজিলের আক্রমণ কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিরও পরীক্ষা।
প্রথম ম্যাচে ড্র করায় ব্রাজিলের ওপর চাপ বেড়েছে। স্কটল্যান্ড নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতে গ্রুপে এগিয়ে আছে। মরক্কোও এক পয়েন্ট নিয়ে আছে। তাই হাইতির বিপক্ষে জয় ব্রাজিলের জন্য জরুরি। নেইমার না থাকলেও এই ম্যাচে ভুলের জায়গা কম আনচেলত্তির দলের।
এখন ব্রাজিলের পরিকল্পনা পরিষ্কার—নেইমারকে নিয়ে তাড়াহুড়া নয়। গ্রুপ পর্বে তাকে না পেলেও নকআউটের জন্য ফিট করে তোলাই বড় লক্ষ্য। তবে সে জন্য আগে ব্রাজিলকে নেইমার ছাড়াই গ্রুপের বাধা পেরোতে হবে।
