আপিলে ভিসা পেলেন ইরানের ৪ প্রতিনিধি, নিষেধাজ্ঞায় এখনো ১১ জন

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ভিসা জটিলতা ঘিরে আলোচনায় ইরান। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলো খেলতে ইরানের ফুটবলাররা ভিসা পেলেও দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফ এখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।
ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে আপিল করে ইরানের প্রতিনিধি দলের চার সদস্য শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন। তবে ফেডারেশন সভাপতি মেহদি তাজসহ আরও ১১ জন এখনো নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ইরানের প্রতিনিধি দলের ১৫ সদস্যের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১০ জন মেক্সিকোয় পৌঁছানোর পর নতুন করে আবেদন বা আপিল করেন। সেই আপিলে চারজন সফল হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের একজন বিশ্লেষক এবং ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক বিভাগের দুই কর্মকর্তা আছেন বলে জানা গেছে।
তবে ভিসা না পাওয়া তালিকায় রয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ। তাঁর সঙ্গে ফেডারেশনের একজন সহসভাপতি, কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, প্রেস কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বিভাগের একজন সদস্যও যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি পাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিসা সমস্যার কারণে ইরান বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবির যুক্তরাষ্ট্রে করতে পারেনি। দলটির মূল বেস ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল অ্যারিজোনায়। কিন্তু রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভিসা অনিশ্চয়তার কারণে ইরান শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ঘাঁটি গেড়েছে। সেখান থেকেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরু থেকেই জটিল হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সদস্যদের বাদ দিয়ে দলকে স্বাভাবিকভাবে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ইরান দল তাদের প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রদূত দাবি করেছিলেন, ম্যাচের দিন সকালে ঢুকে সেদিনই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে দলকে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই দাবিকে সঠিক নয় বলা হয়।
ইরান গ্রুপ ‘জি’তে খেলবে। একই গ্রুপে আছে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশর। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইরান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে নামবে দলটি।
মাঠের লড়াই শুরুর আগেই তাই ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় ঘেরা। খেলোয়াড়রা ভিসা পেলেও কর্মকর্তাদের বড় অংশের অনুপস্থিতি দলটির প্রস্তুতি, যোগাযোগ ও ম্যাচ পরিচালনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এটি শুধু ইরানের সমস্যা নয়, আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিকেও নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
