সমালোচকদের উদ্দেশে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের কড়া বার্তা

বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তবে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে রানার্সআপ হওয়া দলটির পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন ঘটনা নিয়েই আলোচনা হয়েছে বেশি। আর্জেন্টিনাকে ঘিরে ছড়ানো সমালোচনা ও সন্দেহকে এবার ‘ঘৃণার প্রচার’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন আলবিসেলেস্তেরা ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
বিশ্বকাপ শেষে নিজের জন্মস্থান গুয়ালেগুয়েতে ফিরেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার। সেখানে তাকে বীরের মতো স্বাগত জানান স্থানীয় মানুষ। ভালোবাসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বিশ্বকাপজুড়ে চলা কথিত ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচার’ নিয়েও মুখ খোলেন তিনি।
লিসান্দ্রো বলেন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই শুরু হওয়া সমালোচনা স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের পর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে লিসান্দ্রো বলেন, ‘আমার মধ্যে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। একটু রাগও হচ্ছে, কারণ এই ঘৃণা তৈরির কোনো ভিত্তিই তাদের নেই।’
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলার ধরন, কঠিন ট্যাকল ও কয়েকটি বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। তবে লিসান্দ্রোর দাবি, ফুটবলীয় সমালোচনার সীমা ছাড়িয়ে অনেক মন্তব্যই ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দলটির অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা।
আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে নকআউটে উঠেছিল। লিওনেল মেসি গ্রুপ পর্বেই করেছিলেন ছয় গোল। এরপর কেপ ভার্দে ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের জয়, মিসরের বিপক্ষে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল লিওনেল স্কালোনির দল।
ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা পতাকা প্রদর্শন করা খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন লিসান্দ্রো। সেই ঘটনা নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।
দলটির খেলোয়াড়দের অহংকারী হিসেবে উপস্থাপনেরও প্রতিবাদ করেছেন এই সেন্টারব্যাক। তার ভাষায়, ‘আমি দেখি, আমার সতীর্থরা মাঠে কীভাবে লড়াই করে এবং সমর্থকেরা কীভাবে আমাদের উৎসাহ দেয়। এরপরও আমাদের অহংকারী বলা হয়। সম্ভবত এসব কথা আমাদের চেয়ে যারা বলে, তাদের সম্পর্কেই বেশি কিছু প্রকাশ করে। আমরা সব সময় প্রতিপক্ষকে সম্মান করেছি।’
স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছিল। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ঘটনাটি নিয়ে ফিফা তদন্তও শুরু করেছে। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আর্জেন্টিনার আচরণকে ‘অসহনীয় ও অগ্রহণযোগ্য’ বলেছিলেন।
আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার জন্য পরে দুঃখ প্রকাশ করেন।
পুরস্কার বিতরণের সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের স্পেনের দিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে থাকার ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সেটিকে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখেছিলেন। তবে সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন লিসান্দ্রো।
তিনি বলেন, ‘ফাইনালের পর বলা হয়েছে, আমরা নাকি স্পেনকে স্বীকৃতি দিইনি। কিন্তু আমরা তাদের সব খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আমরা সেখানেই ছিলাম।’
পেছন ফিরে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে লিসান্দ্রো বলেন, তখন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা তাদের উদ্দেশে গান করছিলেন। তাই সতীর্থদের সঙ্গে গ্যালারির দিকে ফিরে সমর্থকদের ভালোবাসার জবাব দিয়েছিলেন তিনি।
‘যে ছবিতে আমাদের পেছন ফিরে থাকতে দেখা গেছে, তখন আমাদের সমর্থকেরা গান করছিলেন। ওই মুহূর্তে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ছিল তাঁদের প্রতি আমাদের সম্মান প্রদর্শন,’ বলেন লিসান্দ্রো।
নিউ জার্সির ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। শিরোপা হারানোর হতাশা থাকলেও লিসান্দ্রোর বিশ্বাস, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে ফাইনালে খেলার অধিকার অর্জন করেছিল আর্জেন্টিনা। তাই বিতর্ক দিয়ে দলের পুরো বিশ্বকাপ যাত্রাকে ছোট করে দেখার কারণ দেখছেন না তিনি।
.png)





