ফাইনালের সেই মারামারি নিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে স্পেনের দানি ওলমোর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা। ফাইনালের তিন দিন পর সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার সাবেক এই তারকা।
সেই মারামারির ঘটনায় অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন তিনি। ওলমোর সঙ্গে দেখা হলে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাওয়ার কথাও জানিয়েছেন লিওনেল স্কালোনির এই সহকারী।
বুধবার ভ্যালেন্সিয়া ক্যাপিটাল রেডিওর এস্পোর্তস মিগদিয়া অনুষ্ঠানে ঘটনাটি নিয়ে প্রথমবার বিস্তারিত কথা বলেন আয়ালা। নিজের পদ ও দায়িত্বের কথা বিবেচনায় এমন আচরণ করা উচিত হয়নি বলে স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার সাবেক এই অধিনায়ক।
আয়ালা বলেন, ‘অবশ্যই আমি অনুতপ্ত। যে দায়িত্বে আছি, সেখানে অন্য পক্ষের কোনো কথা কিংবা আচরণকে আমার মেজাজ ও কাজ বদলে দেওয়ার সুযোগ দিতে পারি না। আমার এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত হয়নি।’
তবে ভিডিওতে দেখা ঘটনাটিকে ঘুষি বলতে রাজি নন আয়ালা। তার দাবি, ওলমোকে ঘুষি নয়, ধাক্কা দিয়েছিলেন তিনি। স্প্যানিশ ফুটবলারের একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই ঘটনাটি ঘটেছিল বলেও জানান তিনি।
আয়ালার ভাষায়, ‘এটি ঘুষির চেয়ে ধাক্কাই বেশি ছিল। একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এমনটা হয়েছে। তবে দানি ওলমোর সঙ্গে দেখা হলে অবশ্যই ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইব।’
গত রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারায় স্পেন। শেষ বাঁশির পর স্প্যানিশ খেলোয়াড়েরা উদ্যাপন শুরু করলে মাঠে দুই দলের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
আয়ালা জানান, মাঝমাঠে মারামারি দেখে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সরিয়ে আনতেই কোচিং স্টাফের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু উত্তেজনার মধ্যে নিজেই ওলমোর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য ছিল খেলোয়াড়দের আলাদা করা। তখন আবেগ ও উত্তেজনা অনেক বেশি ছিল, কিন্তু সেটি কোনো অজুহাত হতে পারে না। আমি যে দায়িত্বে আছি, তাতে আমার আচরণ অবশ্যই ভিন্ন হওয়া উচিত ছিল।’
এরিক গার্সিয়ার সঙ্গেও কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আয়ালা। স্পেনের এই ডিফেন্ডারকে তিনি বোঝান, মারামারিতে যোগ দিতে নয়, খেলোয়াড়দের আলাদা করতে এবং প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানাতেই এগিয়ে গিয়েছিলেন।
ফাইনালের পর সংঘর্ষে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনাসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ও জড়িয়ে পড়েন। পারেদেসের সঙ্গে এরিক গার্সিয়া ও গাভির ধস্তাধস্তি হয়। মোলিনার সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় স্পেন অধিনায়ক রদ্রির।
ঘটনাগুলো তদন্তে একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতাবিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে ফিফা। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফের সদস্যদেরও নিষেধাজ্ঞা কিংবা আর্থিক শাস্তি হতে পারে।
এর আগে সংঘর্ষে জড়িয়েও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের শাস্তি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন গাভি। এবার নিজের আচরণের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার কথা জানালেন আয়ালা।
.png)





