logo

দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে পরের রাউন্ডে মেক্সিকো

দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে পরের রাউন্ডে মেক্সিকো
মেক্সিকো ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। গুয়াদালাহারায় গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে স্বাগতিকদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন লুইস রোমো। খুব উজ্জ্বল ফুটবল না খেলেও সংগঠিত রক্ষণ, সুযোগের সদ্ব্যবহার এবং শেষ দিকে গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেলের দুর্দান্ত সেভে জয় তুলে নেয় হাভিয়ের আগিরের দল।

দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল তারা। এবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে কঠিন, শারীরিক এবং অনেক সময় ছন্দহীন এক ম্যাচ থেকেও পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিল স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এটি খুব মসৃণ ফুটবলের রাত হবে না। দুই দলই মাঝমাঠে লড়াই করেছে, কিন্তু আক্রমণে খুব বেশি ধার দেখাতে পারেনি। দক্ষিণ কোরিয়া বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও মেক্সিকো রক্ষণে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছিল।

প্রথমার্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে সন হিউং-মিনের পা থেকে। লম্বা পাস ধরে মেক্সিকো গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেলের দিকে এগিয়ে যান তিনি। শেষ মুহূর্তে সন বিপদ তৈরি করলেও এদসন আলভারেজ গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপে মেক্সিকোকে বাঁচান।

মেক্সিকোর দিক থেকেও সুযোগ এসেছিল। রবার্তো আলভারাদোর নিচু ক্রস থেকে জুলিয়ান কুইনোনেসের হেড ঠেকিয়ে দেন দক্ষিণ কোরিয়া গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ। তবে প্রথমার্ধে মেক্সিকোর আক্রমণ খুব বেশি ধারালো ছিল না। মাঝমাঠে বল ঘোরালেও শেষ অংশে গিয়ে ছন্দ হারাচ্ছিল তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায়। ৫০ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সুযোগ পায় মেক্সিকো। গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ সহজ বল ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। সতীর্থ লি গি-হিউকের সঙ্গে ধাক্কায় বল পড়ে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রোমো। সামনে প্রায় ফাঁকা গোল পেয়ে বল জালে পাঠান তিনি।

গোলটি ছিল না কোনো সাজানো আক্রমণের ফল। কিন্তু বিশ্বকাপে এমন গোলই অনেক সময় দলকে এগিয়ে দেয়। রোমোর গোলের পর গুয়াদালাহারার গ্যালারি স্বস্তির উল্লাসে ফেটে পড়ে। যে ম্যাচে মেক্সিকো আক্রমণে খুব বেশি ধার দেখাচ্ছিল না, সেই ম্যাচেই অপ্রত্যাশিত নায়ক হয়ে ওঠেন রোমো।

গোলের পর মেক্সিকো আরও সতর্ক হয়ে যায়। তারা লিড ধরে রাখতে মাঝমাঠের পেছনে নেমে রক্ষণ শক্ত করে। দক্ষিণ কোরিয়া তখন বল নিয়ে এগোয়, কিন্তু আক্রমণে গতি থাকলেও ধার ছিল কম। সন ক্লান্ত হয়ে পড়ায় তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর লি কাং-ইন, হোয়াং হি-চান, ওহ হিউন-গিউ ও বদলি খেলোয়াড়দের দিয়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে দক্ষিণ কোরিয়া।

হাভিয়ের আগিরেও পরিবর্তন আনেন। অরবেলিন পিনেদা ও ওবেদ ভারগাসকে নামিয়ে মাঝমাঠে ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা করেন তিনি। রাউল হিমেনেজও একবার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন কিম। পরে সান্তিয়াগো হিমেনেজকে নামিয়ে মেক্সিকো আক্রমণে নতুন শক্তি আনার চেষ্টা করে। তবে তাদের মূল পরিকল্পনা তখন পরিষ্কার ছিল: বল ধরে রাখা, জায়গা বন্ধ করা এবং লিড বাঁচানো।

শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়া চাপ বাড়ায়। ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত আসে ৮৭ মিনিটে। চো গিউ-সাংয়ের কাছ থেকে সমতার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তাঁর প্রচেষ্টা পা দিয়ে ঠেকান রাঙ্গেল। ফিরতি বলে ইয়াং হিউন-জুনের শটও অসাধারণভাবে রুখে দেন মেক্সিকো গোলরক্ষক। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি সেভ ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।

শেষ মিনিটগুলো ছিল মেক্সিকোর জন্য উদ্বেগে ভরা। দক্ষিণ কোরিয়া একের পর এক বল বক্সে তুলেছে। কিন্তু জোহান ভাসকেজসহ মেক্সিকোর রক্ষণ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। শারীরিক লড়াই, চাপ এবং গ্যালারির উত্তেজনার মধ্যেও তারা ক্লিন শিট ধরে রাখে।

এই জয় মেক্সিকোর জন্য শুধু তিন পয়েন্ট নয়, বড় মানসিক মুক্তিও। ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার হতাশা ছিল তাদের পেছনে। এবার ঘরের মাঠে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে তারা দ্রুত নকআউট নিশ্চিত করল। ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শেষ ৩২ পর্ব হচ্ছে, আর সেই পর্বে জায়গা নিশ্চিত করা প্রথম দল হলো স্বাগতিক মেক্সিকো।