ব্রাজিলের ২৪ বছরের অপেক্ষা ঘোচাতে চান ভিনিসিয়ুস

বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যক্তিগত আলো, পুরস্কার বা এমভিপি হওয়ার স্বপ্ন নয়; ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের লক্ষ্য অনেক বড়। নিজ দেশ ব্রাজিলকে আবার বিশ্ব ফুটবলের চূড়ায় ফেরাতে চান এই ফরোয়ার্ড। মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জানিয়ে দিলেন, তাঁর কাছে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাওয়া ব্রাজিলের ওপর চাপ নতুন নয়। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০০২ সালে। এরপর কেটে গেছে ২৪ বছর। গত দুই বিশ্বকাপে ব্রাজিল থেমেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে বিদায় নেওয়ার হতাশা এখনো দলের অনেকের স্মৃতিতে তাজা।
সেই দলেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন ভিনিসিয়ুস। এবার তিনি আরও অভিজ্ঞ, আরও প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, বিশ্বকাপ অন্য যেকোনো টুর্নামেন্টের চেয়ে আলাদা। গত বিশ্বকাপ তাঁকে শিখিয়েছে, ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত প্রস্তুত থাকতে হয়। ছোট ভুলের মূল্য বিশ্বকাপে অনেক বড় হতে পারে।
ভিনিসিয়ুস মনে করেন, বিশ্বকাপ তাঁদের জন্য শুধু ম্যাচের দিন শুরু হচ্ছে না। কয়েক দিন আগে থেকেই ব্রাজিলের প্রস্তুতি, মনোযোগ ও মানসিকতা বিশ্বকাপের মধ্যে ঢুকে গেছে। প্রথম ম্যাচ থেকেই ছন্দে থাকতে চান তাঁরা।
নিজের লক্ষ্য নিয়ে ভিনিসিয়ুস ছিলেন পরিষ্কার। ব্যক্তিগত পুরস্কার তাঁর ভাবনায় নেই। তিনি এমভিপি হতে আসেননি, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার লক্ষ্য নিয়েও আসেননি। তাঁর লক্ষ্য ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতাতে সাহায্য করা।
ভিনিসিয়ুসের জন্য এই বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ মুহূর্তগুলোর একটি। চোটমুক্ত মৌসুম কাটিয়ে তিনি নিজেকে শারীরিকভাবে প্রস্তুত মনে করছেন। আগের বিশ্বকাপের তুলনায় বেশি ম্যাচ খেলা, বেশি অভিজ্ঞতা এবং বড় মঞ্চে আরও পরিণত হওয়ার আত্মবিশ্বাসও আছে তাঁর।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির কথাও আলাদা করে বলেছেন ভিনিসিয়ুস। রিয়াল মাদ্রিদে আনচেলত্তির অধীনেই তিনি নিজের খেলায় নতুন উচ্চতায় উঠেছেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে রিয়ালের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।
ভিনিসিয়ুস মনে করেন, আনচেলত্তি তাঁকে নিজের সেরাটা দেওয়ার স্বাধীনতা দেন। শুধু গোল করা নয়, ভালো ফুটবল খেলা, দলের জন্য জায়গা তৈরি করা, আক্রমণে প্রভাব রাখা এসবই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আনচেলত্তির কাছ থেকে পাওয়া সেই স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাস জাতীয় দলেও কাজে লাগাতে চান তিনি।
তবে স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও আছে। ভিনিসিয়ুস জানিয়েছেন, আনচেলত্তি সব সময় বলেন, বিশ্বকাপে পুরো ৯০ মিনিট সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। কারণ এমন টুর্নামেন্টে ছোট ছোট বিষয়ই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ তাই শুধু আরেকটি শুরু নয়। এটি ২৪ বছরের শিরোপা-খরা ঘোচানোর নতুন অভিযানের প্রথম পরীক্ষা। আফ্রিকার শক্তিশালী ও সংগঠিত দল মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলকে শুধু তারকাখ্যাতি দিয়ে নয়, শৃঙ্খলা, মনোযোগ ও দলগত ভারসাম্য দিয়েও খেলতে হবে।
ভিনিসিয়ুসের বার্তা সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলের আক্রমণের সবচেয়ে বড় মুখদের একজন হয়েও তিনি নিজেকে ব্যক্তিগত আলোয় রাখতে চান না। তাঁর কাছে বড় প্রশ্ন একটাই—ব্রাজিল কি আবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে?
মরক্কো ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরের ভেতরের সুর তাই পরিষ্কার। আনচেলত্তি বাস্তববাদী, দল সতর্ক, আর ভিনিসিয়ুস প্রস্তুত। ব্যক্তিগত পুরস্কার পরে দেখা যাবে। আপাতত তাঁর চোখ শুধু এক জায়গায়—ব্রাজিলের জার্সিতে ষষ্ঠ তারকা যোগ করা।
