ব্রাজিল ম্যাচে হাকিমির কি লাল কার্ড পাওয়া উচিত ছিল?

ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ শেষ হয়েছে ১-১ ড্রয়ে। ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যাওয়া মরক্কোর বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলেই ম্যাচে ফেরে ব্রাজিল। তবে স্কোরলাইন, ব্রাজিলের অস্বস্তি কিংবা মরক্কোর সাহসী ফুটবলের বাইরে আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে—আশরাফ হাকিমির একটি কঠিন চ্যালেঞ্জে কি লাল কার্ড হওয়া উচিত ছিল?
বিতর্কের ঘটনাটি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে। ব্রাজিলিয়ান তারকার ওপর হাকিমির চ্যালেঞ্জ নিয়ে ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের দাবি, ঘটনাটি শুধু সাধারণ ফাউল বা হলুদ কার্ডের সীমায় ছিল না; এটি গুরুতর ফাউল হিসেবেও দেখা যেত। আবার অন্য পক্ষের যুক্তি, বলের লড়াইয়ে হাকিমির চেষ্টা কঠিন হলেও সেটিকে সরাসরি লাল কার্ড বলার মতো পরিষ্কার ঘটনা ছিল না।
ফুটবলের আইন অনুযায়ী, এই ধরনের ঘটনার বিচার হয় কয়েকটি বিষয়ের ওপর। চ্যালেঞ্জে অতিরিক্ত শক্তি ছিল কি না, প্রতিপক্ষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছিল কি না, বুটের স্টাড সামনে রেখে পা গিয়েছিল কি না, বল খেলার বাস্তব সুযোগ ছিল কি না—এসব বিবেচনা করেই রেফারি ও ভিডিও সহকারী রেফারি সিদ্ধান্ত নেন।
যদি কোনো খেলোয়াড় পা উঁচু করে, বুটের স্টাড সামনে রেখে প্রতিপক্ষের পায়ে সরাসরি আঘাত করেন এবং সেই আঘাতে প্রতিপক্ষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে সেটি লাল কার্ডের মতো অপরাধ হতে পারে। বিশেষ করে গোড়ালি, পায়ের নিচের অংশ বা পায়ের ওপরের দিকে স্টাডের আঘাত লাগলে গুরুতর ফাউলের দাবি আরও শক্ত হয়।
এই কারণেই হাকিমির চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভিনিসিয়ুস ছিলেন ব্রাজিলের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়। নেইমার না থাকায় আক্রমণের বড় দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। এমন অবস্থায় তাঁকে থামাতে হাকিমির কঠিন চ্যালেঞ্জ ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত শুধু চ্যালেঞ্জ দেখতে খারাপ লাগল কি না, সেটার ওপর নির্ভর করে না। রেফারিকে দেখতে হয়, আঘাত কতটা জোরে লেগেছে, চ্যালেঞ্জ করা খেলোয়াড়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল কি না, পা সোজা ছিল নাকি ভাঁজ করা, এবং বল খেলার চেষ্টা কতটা বাস্তব ছিল।
যদি হাকিমির পা ভিনিসিয়ুসের পায়ে স্টাড সামনে রেখে লাগে এবং আঘাতের জোর বেশি থাকে, তাহলে লাল কার্ড দেখানো অবাক করার মতো সিদ্ধান্ত হতো না। বরং ভিডিও সহকারী রেফারির মাধ্যমে ঘটনাটি আবার দেখার যুক্তিও ছিল। কারণ আধুনিক ফুটবলে খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা এখন খুব বড় বিষয়।
কিন্তু যদি রেফারি মনে করেন আঘাত ছিল হালকা, জোর কম ছিল, অথবা হাকিমির চ্যালেঞ্জ বেপরোয়া হলেও অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের পর্যায়ে যায়নি, তাহলে হলুদ কার্ড বা শুধু ফাউল দিয়েও সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করা যায়। এখানেই বিতর্কের জায়গা।
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের ক্ষোভের আরেক কারণ ম্যাচের প্রেক্ষাপট। মরক্কো শুরু থেকেই ব্রাজিলকে চাপে রেখেছিল। ব্রাজিলের মাঝমাঠ ঠিকমতো খেলায় ফিরতে পারছিল না। ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই ব্রাজিলকে ম্যাচে ফেরায়। এমন ম্যাচে দলের সবচেয়ে কার্যকর খেলোয়াড়ের ওপর বিপজ্জনক মনে হওয়া চ্যালেঞ্জে কঠোর শাস্তি না হলে প্রশ্ন উঠবেই।
এ ধরনের সিদ্ধান্তে ভিডিও সহকারী রেফারির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। সাধারণত তিনি তখনই হস্তক্ষেপ করেন, যখন মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তে স্পষ্ট ও পরিষ্কার ভুল থাকে, অথবা গুরুতর কোনো ঘটনা রেফারির চোখ এড়িয়ে যায়। অর্থাৎ দর্শকের চোখে লাল কার্ড মনে হলেও ভিডিও সহকারী রেফারি সেটিকে রেফারির ব্যাখ্যার মধ্যে রেখে দিতে পারেন।
তবু প্রশ্নটা থেকে যায়, হাকিমি কি বেঁচে গেলেন? উত্তরটি পুরোপুরি নির্ভর করে রিপ্লের ব্যাখ্যার ওপর। যদি চ্যালেঞ্জে স্টাড সামনে রেখে আঘাত, বেশি জোর এবং ভিনিসিয়ুসের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি পরিষ্কার থাকে, তাহলে লাল কার্ডের দাবি যথেষ্ট শক্ত। কিন্তু যদি আঘাত কম জোরের হয় বা বলের লড়াইয়ে নিয়ন্ত্রিত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যায়, তাহলে রেফারির সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি ভুল বলা কঠিন।
তাই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ রায় হতে পারে, হাকিমির চ্যালেঞ্জটি লাল কার্ডের আলোচনায় আসার মতোই ছিল। ঘটনাটি ভিডিওতে আবার দেখা হলে অবাক হওয়ার কিছু ছিল
