সানোর গোলের আগে নিজের ভুল নিয়ে মুখ খুললেন দানিলো

জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে ব্রাজিল। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনায় ছিল দলের ডিফেন্ডার দানিলোর একটি ভুলও। প্রথমার্ধে তার ভুল পাস থেকেই কাইশু সানোর গোল আসে। পরে কাসেমিরো ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে ২-১ ব্যবধানে জেতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
হিউস্টনে ম্যাচের ২৯ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করছিল ব্রাজিল। তখন মাঝমাঠে দানিলোর পাস ঠিকঠাক হয়নি। সুযোগটি কাজে লাগান সানো। বল কুড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে নিচু শটে অ্যালিসনকে পরাস্ত করেন জাপানি মিডফিল্ডার।
গোলটি ব্রাজিলকে বড় চাপে ফেলে দেয়। এরপর আরও সংগঠিত হয়ে খেলে জাপান, প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে আটকে রাখে তারা। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের ছবি। কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে সেলেসাওরা। আর যোগ করা সময়ে মার্তিনেল্লির গোলে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।
ম্যাচের পর নিজের ভুল নিয়ে কথা বলেন দানিলো। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার জানান, এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শান্ত থাকা এবং দ্রুত সামনে এগিয়ে যাওয়া। সবকিছু নিখুঁত করতে চাইলেও ফুটবলে ভুলের সম্ভাবনা থাকে, সেটিও স্বীকার করেন তিনি।
দানিলোর মতে, ভুলের পর দল যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, সেটিই ছিল আসল বিষয়। ব্রাজিল তাড়াহুড়ো করেনি, বরং ধৈর্য ধরে ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজেছে। আগের কিছু অভিজ্ঞতায় তারা দ্রুত ম্যাচ ঘোরাতে গিয়ে প্রক্রিয়া এড়িয়ে গিয়েছিল। এবার সেই ভুল করেনি আনচেলত্তির দল।
তিনি মনে করেন, ম্যাচ দীর্ঘ, সেটি বুঝে খেলার পরিণতিই ব্রাজিলকে সাহায্য করেছে। পিছিয়ে পড়ার পরও দল মাঠে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ঘোরানো সম্ভব হয়েছে।
জাপানের বিপক্ষে জয়টি সহজ ছিল না ব্রাজিলের জন্য। প্রথমার্ধে সানোর গোল, জাপানের সংগঠিত রক্ষণ এবং গোলরক্ষক জিওন সুজুকির সেভ ম্যাচটিকে কঠিন করে তোলে। ব্রাজিল বল পেলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ব্রাজিল চাপ বাড়ায়। আনচেলত্তির পরিবর্তনগুলো ম্যাচে গতি আনে। কাসেমিরোর গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে সেলেসাওদের দিকে যায়। জাপান তখন আরও নিচে নেমে রক্ষণ সামলাতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারায়েসের পাস থেকে গোল করেন মার্তিনেল্লি। সেই গোলেই শেষ ষোলো নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের। দানিলোর ভুল ম্যাচের বড় মুহূর্ত হয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি ব্রাজিলের বিদায়ের কারণ হয়নি।
ব্রাজিল এখন অপেক্ষা করছে নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট ম্যাচের জয়ীর জন্য। শেষ ষোলোয় সেই দলটির বিপক্ষেই মাঠে নামবে আনচেলত্তির দল। তবে জাপান ম্যাচের শিক্ষা পরিষ্কার, নকআউটে ছোট ভুলও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আর সেই ভুলের পর মানসিক স্থিরতাই কখনো কখনো ম্যাচ বাঁচিয়ে দেয়।



