Advertisement

মরিনহোর এক ফোনেই বদলে গিয়েছিল ইউনাইটেডের ইতিহাস

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
মরিনহোর এক ফোনেই বদলে গিয়েছিল ইউনাইটেডের ইতিহাস
মরিনহোর সেই ফোন না এলে হয়তো এখন ইউনাইটেডের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। ছবি: গার্ডিয়ান

ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়েই গিয়েছিল পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহোর। ২০১৩ সালে ইউনাইটেডের কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের উত্তরসূরি হিসেবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে যাওয়ার সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিলেন পর্তুগিজ কোচ। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফার্গুসনকে করা মরিনহোর একটি ফোন বদলে দেয় ইউনাইটেডের পরবর্তী ইতিহাস।

Advertisement

নিজের জীবন নিয়ে নির্মিত নেটফ্লিক্সের নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘মরিনহো’তে এতদিন অজানা এই ঘটনা জানিয়েছেন বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে থাকা মরিনহো। তার বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফার্গুসনও।

২০১২-১৩ মৌসুমে ইউনাইটেডকে ১৩তম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতিয়ে অবসরের ঘোষণা দেন ফার্গুসন। প্রায় ২৭ বছর ধরে ক্লাবটির দায়িত্ব পালন করা স্কটিশ কিংবদন্তির উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে তখন ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা চলছিল।

শেষ পর্যন্ত এভারটন থেকে ডেভিড ময়েসকে নিয়োগ দেয় ইউনাইটেড। তবে নতুন তথ্য অনুযায়ী, ময়েসের আগে দায়িত্বটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল মরিনহোর। রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তিতেও সই করেছিলেন তিনি।

মরিনহো বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর স্যার অ্যালেক্সের জায়গায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যাওয়ার জন্য আমি চুক্তি করেছিলাম। ইউনাইটেডের আকর্ষণ অসাধারণ। রিয়ালকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব বললেও ইউনাইটেড তাদের খুব কাছাকাছি।’

চুক্তি হয়ে গেলেও মরিনহোর মন পড়ে ছিল চেলসিতে। ক্লাবটির মালিক রোমান আব্রামোভিচের সঙ্গে পুরোনো বিরোধ মিটিয়ে স্টামফোর্ড ব্রিজে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সেই প্রতিশ্রুতি ভাঙতে না পেরেই শেষ মুহূর্তে ইউনাইটেডে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান।

প্রামাণ্যচিত্রে ফার্গুসন জানান, মরিনহো দায়িত্ব নিচ্ছেন বলেই তিনি জানতেন। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যায় পরিস্থিতি বদলে যায়।

ফার্গুসন বলেন, ‘সে আমাকে ফোন করেছিল এবং কাঁদছিল। বলেছিল, অ্যালেক্স, আমি দায়িত্বটি নিতে পারব না। চেলসিকে কথা দিয়েছি এবং সেই কথা ভাঙব না। তার কারণটি বুঝতে পেরেছিলাম, কিন্তু আমি হতাশ হয়েছিলাম।’

মরিনহোর সেই সিদ্ধান্তের পর ময়েসকে ছয় বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় ইউনাইটেড। কিন্তু মাত্র ১০ মাসের মধ্যেই তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর একের পর এক কোচ বদলালেও ফার্গুসনের সময়ের আধিপত্য আর ফিরিয়ে আনতে পারেনি ক্লাবটি।

অন্যদিকে চেলসিতে ফিরে দ্বিতীয় মেয়াদে আরও একটি প্রিমিয়ার লিগ ও লিগ কাপ জেতেন মরিনহো। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বরখাস্ত হওয়ার পর ২০১৬ সালে শেষ পর্যন্ত ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেন তিনি। আড়াই বছরের সেই অধ্যায়ে ইউরোপা লিগ ও লিগ কাপ জিতলেও ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষে ফিরতে পারেনি ইউনাইটেড।

ফার্গুসনের সরাসরি উত্তরসূরি হওয়ার সুযোগ ছেড়ে দেওয়াকে বড় ঘটনা হিসেবে দেখলেও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই মরিনহোর।

তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি আমার জন্য নাটকীয় ছিল। কিন্তু আমি হৃদয়ের কথা শুনেছিলাম। ভালোবাসার জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত কখনো ভুল হতে পারে না।’

২০১৩ সালের সেই ফোনটি না এলে ইউনাইটেডের ফার্গুসন-পরবর্তী অধ্যায় হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো। মরিনহোর কান্নাভেজা একটি সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত বদলে যায় ক্লাবটির ইতিহাসের গতিপথ।

মরিনহোর এক ফোনেই বদলে গিয়েছিল ইউনাইটেডের ইতিহাস