উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫ গোল খেল বাংলাদেশ
-1772776124-5844_1772776152.webp)
সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিল এক কঠিন পরীক্ষার মঞ্চ। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলের সামনে শেষ পর্যন্ত ৫–০ গোলের বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে পিটার বাটলারের দলকে। তবে ফলাফলের আড়ালেও বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি হয়ে রইল উচ্চমানের ফুটবলের বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ।
প্রথম থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল উত্তর কোরিয়ার হাতে। দ্রুতগতির আক্রমণ আর ধারাবাহিক চাপের মধ্যে পড়ে যায় বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ম্যাচের শুরুর দিকেই কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করে কোরিয়ানরা, কিন্তু গোলরক্ষক মিলি আক্তারের দৃঢ়তায় সেগুলো ঠেকানো সম্ভব হয়।
৬ মিনিটে হান জিন হংয়ের বিপজ্জনক সুযোগ মিলি দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন। কিছুক্ষণ পর আবারও একই খেলোয়াড়ের শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে পাঁচ গোল হজম করলেও বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল রুখে দিয়ে মিলি ব্যবধান আরও বড় হওয়া থেকে দলকে বাঁচান।
প্রথমার্ধে ভাগ্যও কিছুটা সহায় ছিল বাংলাদেশের। ১৪ মিনিটে উত্তর কোরিয়া জালে বল পাঠালেও ভিএআরে সেটি হ্যান্ডবলের কারণে বাতিল হয়। ২৬ মিনিটে আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ৩৮ মিনিটে কিম কিয়ং–ইয়ংয়ের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে তখনো ম্যাচে টিকে ছিল বাংলাদেশ।
তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে রক্ষণ আর ধরে রাখা যায়নি। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে বক্সের ভেতর ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় উত্তর কোরিয়া। মিয়ং ইউ–ঝং স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এর দুই মিনিট পরই কিম কিয়ং–ইয়ং গোল করে ব্যবধান বাড়ান ২–০।
দ্বিতীয়ার্ধে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ৬২ মিনিটে চা উন–ইয়ং তৃতীয় গোল করেন। দুই মিনিট পর আবারও জালে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কিম কিয়ং–ইয়ং। ম্যাচের শেষদিকে ৮৯ মিনিটে পঞ্চম গোলটি হজম করে বাংলাদেশ।
পুরো ম্যাচেই বাংলাদেশের আক্রমণভাগ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। বিশেষ করে দলের অন্যতম ভরসা ঋতুপর্ণা চাকমাকে কোরিয়ান রক্ষণভাগ শক্তভাবে আটকে রাখে, ফলে বাংলাদেশের পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুব কমই তৈরি হয়।
যদিও ফলাফল হতাশাজনক, তবু বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ এক অভিজ্ঞতা। এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের দলগুলোর বিপক্ষে খেলার গতি, শারীরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত পার্থক্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছে দলটি।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ভালো ফল পাওয়ার আশা নিয়েই এখন পরবর্তী প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে দল।