এক মৌসুমে ছয় শিরোপার ইতিহাস গড়বে পিএসজি?

টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের সামনে এবার আরও বড় ইতিহাসের হাতছানি। ২০২৬-২৭ মৌসুমে ছয়টি প্রতিযোগিতার সব কটিতে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি টানা তৃতীয়বার ইউরোপ সেরা হওয়ার সুযোগ রয়েছে লুইস এনরিকের দলের।
নতুন মৌসুমের প্রথম শিরোপা জয়ের সুযোগও এসে গেছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টায় অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গে উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে ইউরোপা লিগজয়ী অ্যাস্টন ভিলার মুখোমুখি হবে চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি।
২০২৫ সালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল ফরাসি ক্লাবটি। পরের বছর বুদাপেস্টের ফাইনালে আর্সেনালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে শিরোপা ধরে রাখে তারা।
চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগে পিএসজির আগে কেবল রিয়াল মাদ্রিদই টানা দুটি শিরোপা জিতেছিল। স্প্যানিশ ক্লাবটি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার সেই কীর্তিতে ভাগ বসানোর সুযোগ পিএসজির সামনে।
ইউরোপিয়ান কাপের পুরোনো ইতিহাস ধরলে টানা অন্তত তিনটি শিরোপা জেতা ক্লাবের সংখ্যা মাত্র তিনটি। রিয়াল ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত প্রথম পাঁচ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। পরে সত্তরের দশকে আয়াক্স ও বায়ার্ন মিউনিখ টানা তিনবার করে ইউরোপ সেরা হয়।
তবে পিএসজির ইতিহাস গড়ার সুযোগ শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি মৌসুমে ছয়টি শিরোপার জন্য খেলবে তারা। প্রতিযোগিতাগুলো হলো উয়েফা সুপার কাপ, ফরাসি সুপার কাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, লিগ আঁ, ফ্রেঞ্চ কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।
গত মৌসুমে এর মধ্যে পাঁচটি শিরোপা জিতেছিল পিএসজি। উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ, ফরাসি সুপার কাপ, লিগ আঁ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি ঘরে তুলেছিল তারা। শুধু ফ্রেঞ্চ কাপেই ব্যর্থ হয় দলটি। জানুয়ারিতে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী প্যারিস এফসির কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা।
ফুটবলে ছয় শিরোপা জয়ের নজির অবশ্য রয়েছে। বার্সেলোনা ২০০৯ সালে এবং বায়ার্ন মিউনিখ ২০২০ সালের শিরোপা চক্রে এই কীর্তি গড়েছিল। ২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার বছরেও ছয়টি ট্রফি জেতে পিএসজি। তবে একই মৌসুমে অংশ নেওয়া ছয় প্রতিযোগিতার সব কটিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির কোনো বড় ক্লাবের নেই। এখানে পার্থক্যটি শিরোপা গণনার সময়সীমায়।
ইতিহাস গড়ার পথে পিএসজির বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি। দলটির ১৬ ফুটবলার সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে খেলেছেন। তাদের ছয়জন টুর্নামেন্টের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন। বিশ্বকাপ ফাইনাল ও উয়েফা সুপার কাপের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ২৪ দিনের।
দলে অবশ্য বড় পরিবর্তন আনেনি পিএসজি। সর্বশেষ দুই চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে একই ১০ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে শুরু থেকে মাঠে নামিয়েছিলেন এনরিকে। তাদের সবাই এখনো ক্লাবে রয়েছেন। নতুন করে যোগ দিয়েছেন মাগনেস আকলিউশ, লুকাস দিনিয়ে ও ১৮ বছর বয়সী গোলরক্ষক আলেসান্দ্রো লঙ্গোনি।
গত দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ধীরগতির শুরুর পরও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছিল পিএসজি। এবার তাদের সামনে লক্ষ্য আরও বড়। অ্যাস্টন ভিলাকে হারাতে পারলে ছয় শিরোপার অভিযানের প্রথম ধাপেই সফল হবে বর্তমান ইউরোপসেরা দলটি।
.png)


