চোট কাটিয়ে ফিরে ছন্দহীন মেসি, হার দিয়ে মৌসুম শুরু মায়ামির

বিশ্বকাপের বছরে নিজেদের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই ধরা খেল ইন্টার মায়ামি। কোনো চমক দেখাতে পারলেন না লিওনেল মেসিও। এমএলএস কাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামা দলটি মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই লস অ্যাঞ্জেলসের বিপক্ষে হারল ৩–০ গোলের ব্যবধানে।
এদিন এলএ কলিসিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ঘিরে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ৭৫ হাজারের বেশি দর্শক—যা লিগ ইতিহাসের অন্যতম বড় সমাগম। আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন দুই তারকা ফুটবলার। তবে এদিন আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসিকে ছাপিয়ে আলো কাড়েন কোরিয়ান ফরোয়ার্ড সন হিউং-মিন। এই ম্যাচ দিয়েই সন লস অ্যাঞ্জেলসের জার্সিতে নিজের প্রথম পূর্ণ মৌসুম শুরু করলেন।
এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধের ৩৭তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। সনের নিখুঁত সহায়তায় গোল করেন ডেভিড মার্তিনেজ। বিরতির পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় মায়ামি, তবে আক্রমণে ছিলনা ধার। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয় গোলের সময়। মাঝমাঠ থেকে টিমোথি টিলম্যানের লম্বা পাস মায়ামির রক্ষণ ভেদ করে পৌঁছে যায় ডেনিস বোয়াঙ্গার কাছে। গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার তখন পেনাল্টি বক্সের বাইরে অবস্থান করায় সহজ সুযোগ পান বোয়াঙ্গা, ঘুরিয়ে শট নিয়ে বল জড়ান জালে। আর শেষদিকে বদলি নামা নাথান ওরদাজ স্টপেজ টাইমে তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। বোয়াঙ্গার ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান বাড়ান তিনি।
প্রাক–মৌসুম সফরে পাওয়া হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে এদিন মাঠে ফেরেন মেসি। অভিজ্ঞ দুই সতীর্থ জর্ডি আলবা ও সার্জিও বুসকেটস অবসরে যাওয়ায় আক্রমণভাগের নেতৃত্বের ভার পড়েছে তার কাঁধে। তবে প্রত্যাশামতো প্রভাব ফেলতে পারেননি। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার একটি উঁচু শটই ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুযোগ, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
কোচ হাভিয়ের মাশচেরানো শুরুর একাদশে সুযোগ দেন কয়েকজন অভিষিক্ত খেলোয়াড়কে। মেক্সিকোর জার্মান বার্তেরামে খেলেন মেসির সঙ্গে আক্রমণে। রক্ষণে দেখা যায় ব্রাজিলিয়ান মিকায়েলকে, আর আর্জেন্টাইন ফুলব্যাক ফাকুন্দো মুরাও এদিন খেলেন অভিষেক ম্যাচ।
সব মিলিয়ে, শিরোপা রক্ষার অভিযাত্রা শুরু হলো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে। সামনে দীর্ঘ মৌসুম—ঘুরে দাঁড়াতে হলে দ্রুতই ছন্দ খুঁজে পেতে হবে মেসি ও তার দলকে।