অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাহার করলেন ইরান নারী দলের অধিনায়ক

ইরানের নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা গনবারি অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাওয়ার আবেদন প্রত্যাহার করেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। সংস্থাটির দাবি, তিনি মালয়েশিয়া হয়ে শিগগিরই ইরানে ফিরে যাবেন।
এতে করে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করা ইরান নারী ফুটবল দলের সদস্যদের মধ্যে পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন গনবারি।
এর আগে দলের তিনজন খেলোয়াড় ও একজন স্টাফ সদস্যও তাদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাহার করে অস্ট্রেলিয়া থেকে মালয়েশিয়ায় চলে যান। তারা সবাই অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি নারী এশিয়ান কাপ খেলতে গিয়ে আশ্রয় চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, ইরানের নারী দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় তাদের সবাইকে আশ্রয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কারণ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ইরানের জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় দেশে ফিরে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কা ছিল।
পরে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম জানায়, দলের কয়েকজন খেলোয়াড় হোটেল থেকে বেরিয়ে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করেন। তাদের মানবিক ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন খেলোয়াড় সিদ্ধান্ত বদলান। এর মধ্যে মোহাদেসে জোলফিগোল নামের এক খেলোয়াড় প্রথমে আশ্রয় নিতে চাইলেও পরে সতীর্থদের পরামর্শে ইরানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে ইরান দল তাদের গ্রুপ ম্যাচগুলো খেলেছিল ২, ৫ ও ৮ মার্চ।
এর আগে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খেলোয়াড়দের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। তবে পরের ম্যাচে দেখা যায়, খেলোয়াড়রা শুধু জাতীয় সংগীতই গাইছেন না, সেটিকে সালামও করছেন—যা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন, প্রথম ম্যাচে সংগীত না গাওয়া সম্ভবত ইরান সরকারের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদের অংশ ছিল।