এসিএল ছিঁড়ে বিশ্বকাপ শেষ ব্রাজিল তারকা রদ্রিগোর

রিয়াল মাদ্রিদের মৌসুম যখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, ঠিক তখনই বড় ধাক্কা। গেতাফের বিপক্ষে ম্যাচে পাওয়া হাঁটুর চোটে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রদ্রিগো গোয়েসের ডান পায়ের অ্যান্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে গেছে। একই সঙ্গে মেনিস্কাসেও ক্ষতি ধরা পড়েছে। ফলে শুধু ক্লাব মৌসুমই নয়, সামনে আসা বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে গেলেন ২৫ বছর বয়সি এই তারকা।
ক্লাবের মেডিকেল রিপোর্টে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রদ্রিগোর গুরুতর লিগামেন্ট ছেঁড়া নিশ্চিত হয়েছে। ম্যাচের সময় চোট পেলেও তখনই পুরো মাত্রা বোঝা যায়নি।
গেতাফের বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামার ১১ মিনিট পর ডান প্রান্তে বল কন্ট্রোল করতে গিয়ে হাঁটুতে অস্বাভাবিক ভাঁজ পড়ে রদ্রিগোর। সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গেলেও খেলা শেষ করেন তিনি। ড্রেসিংরুমে প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে পরদিন বিস্তারিত স্ক্যানে ধরা পড়ে বড় ধাক্কা।
প্রায় এক মাস টেন্ডিনাইটিসের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পরই ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই নতুন বিপর্যয়।
রদ্রিগোর ছিটকে যাওয়ায় আক্রমণভাগে চাপে পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ইতিমধ্যে কিলিয়ান এমবাপ্পে চোটে, আরেক খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞায় বাইরে। ফলে সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে কোচকে সীমিত বিকল্প নিয়েই পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
এসিএল চোট ফুটবলে সবচেয়ে ভয়াবহ ইনজুরিগুলোর একটি। সাধারণত অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় থাকে না। চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে লিগামেন্ট পুনর্গঠন করা হয়।
মাঠে ফেরার ন্যূনতম সময় ছয় মাস ধরা হলেও পেশাদার ফুটবলারদের ক্ষেত্রে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে ফিরতে ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত সময় লাগে। তাড়াহুড়া করলে পুনরায় চোটের ঝুঁকি থাকে।
পুনর্বাসনের প্রথম ধাপে থাকবে ফোলা কমানো ও হাঁটুর নড়াচড়া স্বাভাবিক করা। এরপর ধাপে ধাপে পেশিশক্তি বাড়ানো, আর শেষ পর্যায়ে ফুটবল-নির্দিষ্ট অনুশীলন।
রদ্রিগোর জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধৈর্য রাখা। বয়স তার পক্ষে—কিন্তু দীর্ঘ পুনর্বাসন মানসিকভাবেও কঠিন।
রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এটি বড় ধাক্কা। আর ব্রাজিলের জন্যও, কারণ সামনে বড় আন্তর্জাতিক আসর।