রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী কোচ মরিনহো, দাবি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের

রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে আবার ফিরতে যাচ্ছেন স্বঘোষিত স্পেশাল ওয়ান হোসে মরিনহো। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, পর্তুগিজ কোচই এখন রিয়ালের পরবর্তী কোচ হওয়ার দৌড়ে একমাত্র বড় প্রার্থী। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও না এলেও তার বার্নাব্যুতে ফেরাকে সময়ের ব্যাপার হিসেবেই দেখছে মাদ্রিদভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।
বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে আছেন আলভারো আর্বেলোয়া। তবে চলতি মৌসুম শেষে তার জায়গায় নতুন কোচ আনার পরিকল্পনা করছে ক্লাবটি। মার্কার দাবি, বড় কোনো নাটকীয় পরিবর্তন না হলে মরিনহোই হবেন রিয়ালের পরবর্তী কোচ। সে ক্ষেত্রে এক বছরের মধ্যে আনচেলত্তি, জাবি আলোনসো ও আর্বেলোয়ার পর তিনি হবেন রিয়ালের চতুর্থ প্রধান কোচ।
রিয়ালের কোচ হওয়ার আলোচনায় মরিনহোর পাশাপাশি মরিসিও পচেত্তিনো ও দিদিয়ের দেশমের নামও ছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ পর্তুগিজ কোচের পক্ষে গেছে বলে দাবি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের। বিশেষ করে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি-ফেদেরিকো ভালভের্দের বিবাদ এবং রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচের পর কিলিয়ান এমবাপ্পে-আর্বেলোয়া বিতর্ক ক্লাবের ড্রেসিংরুম পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে ২-০ জয়ের ম্যাচে শুরুর একাদশে না থাকার পর এমবাপ্পে বলেন, আর্বেলোয়ার অধীনে তিনি এখন রিয়ালের ‘চতুর্থ পছন্দের’ ফরোয়ার্ড। ফরাসি তারকার এই মন্তব্য স্পেনের ফুটবলমহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে রিয়াল এমন একজন কোচ চাইছে, যিনি দ্রুত ড্রেসিংরুমে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে পারবেন। মরিনহোর আগের রিয়াল অধ্যায়, ব্যক্তিত্ব এবং কঠোর ম্যান-ম্যানেজমেন্টকে এ ক্ষেত্রে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাবের ভেতরে তাকে এমন প্রোফাইল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি অস্থির ড্রেসিংরুমে শৃঙ্খলা আনতে পারেন।
মরিনহো এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন। তার অধীনে রিয়াল লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে না পারলেও তার সময়ের দল পরবর্তী সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছিল বলে মাদ্রিদে অনেকেই মনে করেন।
রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজও সম্প্রতি মরিনহোকে নিয়ে ইতিবাচক সুরে কথা বলেছেন। স্প্যানিশ টেলিভিশন লা সেক্সতাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মরিনহো আগে রিয়ালে ছিলেন এবং ক্লাবের মান বাড়িয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য কোচদের মধ্যে শুধু মরিনহোর নাম উল্লেখ করাই তার ফেরার জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।
মরিনহো বর্তমানে বেনফিকার দায়িত্বে আছেন। তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, তার চুক্তি পরিস্থিতি রিয়ালের জন্য বড় বাধা নয়। প্রায় ৩০ লাখ ইউরো ক্ষতিপূরণ দিয়ে বেনফিকা থেকে তার বেরিয়ে আসার বিষয়টি সমাধানযোগ্য বলেই মনে করছে রিয়াল।
রিয়াল মাদ্রিদে এখন সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়াও চলছে। তবে মার্কা জানিয়েছে, এই নির্বাচন প্রক্রিয়া মরিনহোর সম্ভাব্য ফেরায় বাধা হবে না। ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন চলাকালেও স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। রিয়ালের মৌসুম শেষ হবে ২৩ মে, তার পরই কোচ নিয়োগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি হতে পারে।
মরিনহো ফিরলে সেটি হবে এক যুগের বেশি সময় পর বার্নাব্যুতে তার প্রত্যাবর্তন। রিয়ালের সামনে তখন শুধু নতুন কোচ নয়, বড় স্কোয়াড পুনর্গঠনের প্রশ্নও থাকবে। কারা থাকবেন, কারা বিদায় নেবেন, আর কোন পজিশনে নতুন খেলোয়াড় আসবে—এসব সিদ্ধান্তেও নতুন কোচের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
