logo

মেসির বিদায়ে এনজোর কান্না, ফিরে এলো ১০ বছর আগের সেই চিঠি

মেসির বিদায়ে এনজোর কান্না, ফিরে এলো ১০ বছর আগের সেই চিঠি
মেসির বিদায়ে আবেগাপ্লুত হন এনজো। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

দশ বছর আগে আর্জেন্টিনার ১৫ বছরের এক কিশোর ফেসবুকে লিখেছিলেন, লিওনেল মেসি যেন জাতীয় দল ছেড়ে না যান। নিজের বয়সের সঙ্গে মেসির বয়স মিলিয়ে হিসাবও কষতেন, কোনোদিন কি একই দলে খেলতে পারবেন তার নায়কের সঙ্গে? সেই কিশোরই পরে মেসির সতীর্থ হয়েছেন, একসঙ্গে বিশ্বকাপ জিতেছেন।

বলা হচ্ছে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের কথা।

বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর পর মনুমেন্তালে মাইক্রোফোন হাতে বিদায়ী বক্তব্য দিচ্ছিলেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে ২১ বছরের পথচলার কথা বলতে গিয়ে নিজেও বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেই সময় সতীর্থদের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায় এনজোকে।

ক্যামেরায় ধরা পড়ে, মেসির কথা শুনতে শুনতে চোখ মুছছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার। একপর্যায়ে কান্না আর আড়ালও করতে পারেননি তিনি। মুহূর্তটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় টিওয়াইসি স্পোর্টসের সঙ্গে কথা বলেন এনজো। আবেগ সামলে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে খুব আবেগের একটা দিন। অনেক রকম অনুভূতি কাজ করছে। আশা করি লিও দিনটা উপভোগ করেছে। আমরা ওকে খুব মিস করব।’

এনজোর এই কান্নার পেছনে আছে দীর্ঘ এক গল্প।

২০১৬ কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। তখন মাত্র ১৫ বছর বয়স এনজোর। মেসিকে সিদ্ধান্ত বদলাতে অনুরোধ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি লেখা দিয়েছিলেন তিনি।

বহু বছর পর সেই লেখার কথাও নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন এনজো। জানিয়েছিলেন, মেসির বয়স আর নিজের বয়সের হিসাব কষে দেখতেন, কোনোদিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার সঙ্গে খেলার সুযোগ হবে কি না।

শেষ পর্যন্ত সেই কিশোরের স্বপ্ন বাস্তবের চেয়েও বড় হয়ে ধরা দেয়। শুধু মেসির সঙ্গে খেলার সুযোগই পাননি এনজো, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তার সঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হন।

এ বছরের আগস্টে মেসি জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর আবারও তাকে নিয়ে একটি দীর্ঘ চিঠি লিখেছিলেন এনজো। সেখানে স্মরণ করেছিলেন সেই কিশোরবেলার হিসাবের কথা। জানিয়েছিলেন, মেসির সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে জাতীয় দলে এসে তিনি পেয়েছেন এমন একজন মানুষকে, যিনি শুরু থেকেই তাঁকে দলের একজন মনে করিয়েছেন।