logo

ইরান বিশ্বকাপে না খেললেও কিছু যায় আসে না: ট্রাম্প

ইরান বিশ্বকাপে না খেললেও কিছু যায় আসে না: ট্রাম্প

বিশ্বকাপের উত্তাপ মাঠে গড়ানোর আগেই রাজনীতির আগুনে ঝলসে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের আবহে যখন ইরানের ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একরকম কাঁধ ঝাঁকিয়েই জানালেন ইরান খেলুক বা না খেলুক, তাতে তার কিছু যায় আসে না।

সাধারণত বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে সাধারণত কূটনীতির ঊর্ধ্বে থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু এবার বাস্তবতা অন্য গল্প বলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর তেহরান বিশ্বকাপ প্রস্তুতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে, ভিসা ও নিরাপত্তা প্রশ্নে জটিলতা বেড়েছে, আর ঠিক সেই সময় ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন বিতর্ক উসকে দিল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সত্যিই পরোয়া করি না। ইরান এখন খুবই পরাজিত একটি দেশ।’ 

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের সময়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে খোলা সংঘাত শুরু হয়েছে, আর সেই প্রেক্ষাপটে ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণই প্রশ্নের মুখে।

চলতি সপ্তাহে ফিফার আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিশ্বের প্রায় সব দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও ইরান ছিল অনুপস্থিত।

ইরানই ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথম যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলোর একটি। কিন্তু এখন তেহরান আদৌ দল পাঠাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ঘনিয়ে উঠেছে।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ দেশটির ক্রীড়া মাধ্যম ভারজেশ৩-কে বলেন, ‘এই হামলার পর আমরা কীভাবে আশাবাদী মনে বিশ্বকাপের দিকে তাকাব—তা স্পষ্ট নয়।’

বর্তমান সূচি অনুযায়ী ইরানের ম্যাচগুলো—

  • * ১৫ জুন, লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে
  • * ২১ জুন, লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে
  • * ২৬ জুন, সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে

দুই দলই নিজ নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় হলে ৩ জুলাই ডালাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে—যা রাজনৈতিকভাবে এক বিস্ফোরক ম্যাচে রূপ নিতে পারে।

ইরান ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশগুলোর একটি। নির্বাহী আদেশে বিশ্বকাপ দল ও সহায়ক কর্মীদের জন্য ছাড় রাখা হলেও, সরকারি কর্মকর্তা বা পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে ভিসা অনুমোদন ‘কেস-বাই-কেস’ ভিত্তিতে নির্ধারণ করবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদের সবার ভিসা অনুমোদন হয়নি। এ নিয়ে ইরান অনুষ্ঠান বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল। পরে ফিফা মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের পরিচালক অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি বলেন, ‘আমরা একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত বিশ্বকাপ চাই। দলগুলো খেলুক, সমর্থকেরা উপভোগ করুক—এটাই কাম্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্ত পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রত্যাশা অবাস্তব।’

বিশ্বকাপ ঐতিহ্যগতভাবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। যখন আয়োজক দেশের সঙ্গেই অংশগ্রহণকারী দেশের সামরিক সংঘাত চলছে, তখন ফুটবল আর নিছক খেলা থাকে না।

মাঠে বল গড়ানোর আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপ জড়িয়ে গেছে কূটনীতি, ভিসা নীতি আর নিরাপত্তা রাজনীতির জটিল অঙ্কে। ইরান আদৌ যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখবে কি না—তা এখন কেবল ক্রীড়াঙ্গনের প্রশ্ন নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কেরও বড় পরীক্ষা।