বিদেশ নয়, সাফের আগে ঘরের মাঠে ম্যাচ চান ডুলি

নভেম্বরে ঢাকায় বসবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের এই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে বিদেশ সফরের চেয়ে ঘরের মাঠে প্রীতি ম্যাচ খেলাকেই বেশি কার্যকর মনে করছেন বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলি। তার বিশ্বাস, দেশের দর্শকদের সামনে ইতিবাচক ফল পেলে ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতি। এই সময়ে বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সম্ভাব্য ফিফা আসিয়ান কাপে খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকায় ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং কিরগিজস্তানে গিয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।
শনিবার বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের ডুলি জানান, ইন্দোনেশিয়ায় খেলতে পারলে ভালো প্রস্তুতি হবে। তবে সাফের আগে দেশের মাটিতে ম্যাচ খেলাকেই এগিয়ে রাখছেন তিনি।
ডুলি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ায় খেলাও ভালো প্রস্তুতি হতে পারে। তবে আমাদের সমর্থকদের সামনে ঘরের মাঠে খেলতে পারলে প্রস্তুতিটা আরও ভালো হবে। আসিয়ান কাপে খেললেও বাংলাদেশের সমর্থকেরা থাকবে, যা দারুণ। কিন্তু সেখানে ম্যাচ জেতা ঘরের মাঠের তুলনায় অনেক কঠিন হবে। ঘরের মাঠে জয় পেলে কঠিন ম্যাচগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।’
গত মে মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়া ডুলির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ২০০৩ সালের পর প্রতিযোগিতাটির শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ।
৬৫ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, ‘সবাই জানে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ কঠিন প্রতিযোগিতা। আমরা ২৩ বছর ধরে এটি জিততে পারিনি। তাই এবার সবকিছু ঠিকঠাক হতে হবে। আত্মবিশ্বাস গড়তে এমন কিছু ম্যাচ চাই, যেগুলোতে আমাদের জয়ের ভালো সম্ভাবনা থাকবে।’
তবে আন্তর্জাতিক বিরতির পরিকল্পনা এবং ঘরোয়া লিগ শুরুর তারিখ চূড়ান্ত না হওয়ায় জাতীয় দলের প্রস্তুতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ডুলি। গত মৌসুম শেষ হওয়ার পর অধিকাংশ ফুটবলার আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে রয়েছেন। আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের ওপর ফিফার নিবন্ধন নিষেধাজ্ঞার কারণে দলবদলের সময়সীমা বারবার পেছানোয় লিগের সূচিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘লিগ কখন শুরু হবে, সেটি নিশ্চিত না হওয়া আমাদের জন্য মোটেও সহায়ক নয়। ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হতে আর মাত্র চার সপ্তাহ বাকি। খেলোয়াড়েরা চার-পাঁচ সপ্তাহ ধরে অনুশীলনে না থাকলে কাজটি অনেক কঠিন হয়ে যায়।’
ফুটবলারদের শুধু আন্তর্জাতিক বিরতি শুরুর দিন পাওয়া গেলে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে না বলেও মনে করেন ডুলি।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিকূল অবস্থায় রয়েছি। লিগ কবে শুরু হবে এবং ক্লাবগুলো কখন খেলোয়াড়দের ছাড়বে, সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যদি ২১ সেপ্টেম্বরই তাদের পাই, তাহলে ম্যাচের আগে মাত্র তিন-চারটি অনুশীলন সেশন পাব। শুরুতে আমরা যে ধরনের প্রস্তুতির আশা করেছিলাম, সবকিছুই এখন তার চেয়ে কম হচ্ছে।’



