পার্থে ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ, সামনে উজবেকিস্তান

নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে শুধু জয়ের লড়াই নয় কোয়ার্টার ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে নজর রাখতে হচ্ছে জটিল গাণিতিক সমীকরণেও।
বাংলাদেশ সময় আজ বিকেল ৩টায় পার্থের রেক্টাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান, ফিফা র্যাংকিংয়ে তারা বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না বাংলাদেশ শিবির।
গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর শেষ ম্যাচটি তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু সম্মানের নয়, সম্ভাব্য ইতিহাস গড়ারও সুযোগ।
তবে সমীকরণকে আরও কঠিন করে দিয়েছে ফিলিপাইন। গোল্ড কোস্টে ইরানকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা সেরা তৃতীয় দলের দৌড়ে এগিয়ে গেছে। ফলে তিন ম্যাচে ফিলিপাইনের ৩ পয়েন্ট ও নেগেটিভ গোল ব্যবধান বাংলাদেশের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
এই অবস্থায় কোয়ার্টার ফাইনালের আশা জিইয়ে রাখতে হলে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই। এরপর অপেক্ষা করতে হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর।
বাংলাদেশ অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার অবশ্য চাপ না নিয়ে ম্যাচটিকে দেখছেন সুযোগ হিসেবে। ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গ্রুপের শেষ ম্যাচে আমরা সবাই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের হারানোর কিছু নেই। প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলতে পারাটাই আমাদের জন্য গর্বের।’
দলের কোচ পিটার বাটলারও টুর্নামেন্টটিকে শিক্ষার বড় মঞ্চ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা তরুণ দলটির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাটলার বলেন, ‘আমাদের দলের গড় বয়স মাত্র সাড়ে ১৯ বছর। বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলাটা কঠিন অভিজ্ঞতা হলেও এখান থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে আমরা আশাবাদী।’
শারীরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও গতিতে কিছুটা ধীর উজবেকিস্তান। সেই জায়গাটাকেই কাজে লাগাতে চাইছে বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণা, মনিকা চাকমাদের গতি ও আক্রমণাত্মক ফুটবলই হতে পারে ম্যাচের বড় অস্ত্র।
সব মিলিয়ে পার্থের এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি গ্রুপ ম্যাচ নয় বরং এশিয়ান মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ। জটিল সমীকরণ ভেঙে আফঈদারা যদি জয়ের গল্প লিখতে পারেন, তবে সেটি হতে পারে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্ত।