সান মারিনো সফরের আগে নিজের ফুটবল দর্শন জানালেন ডুলি

সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে দেশ ছাড়ার আগে নিজের ফুটবল দর্শন পরিষ্কার করলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের নতুন কোচ থমাস ডুলি। বলের পেছনে শুধু দৌড়ে বেড়ানো নয়, বরং বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে সংগঠিত ফুটবল খেলাতেই জোর দিতে চান তিনি।
আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তার আগে আজ অনুশীলন শেষে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন ডুলি। সঙ্গে ছিলেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও।
গত ২২ মে ঢাকায় আসেন ডুলি। এরপর কয়েক দিন খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করে এখন দলের ভেতরে নিজের পরিকল্পনা ঢোকাতে শুরু করেছেন সাবেক মার্কিন অধিনায়ক। খেলোয়াড়ি জীবনে জার্মান বুন্দেসলিগায় খেলা এবং বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেওয়া ডুলির কোচিং দর্শনও আধুনিক ফুটবলকেন্দ্রিক।
বাংলাদেশকে কোন ছকে খেলাতে চান, এমন প্রশ্নে ডুলি জানান, মাঠে তিনি বল পায়ে রেখে খেলা পছন্দ করেন। তার ভাবনায় বাংলাদেশ শুধু প্রতিপক্ষের পেছনে ছুটবে না, বরং নিজেদের পাসিং, পজিশনিং ও প্রেসিং দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে।
ডুলির পছন্দের ছক ৪-২-৩-১। এই ফরমেশনে তিনি পজিশনাল ফুটবল খেলাতে চান। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য খেলোয়াড়দের মৌলিক দক্ষতায় আরও উন্নতি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে পাস দেওয়া, পাস নেওয়া, সঠিক জায়গায় দাঁড়ানো এবং মুহূর্তের সিদ্ধান্ত ঠিক করা, এসব বিষয়কে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
নতুন কোচের মতে, আধুনিক ফুটবলে প্রেসিং একক কোনো খেলোয়াড়ের কাজ নয়। দলের সবাইকে একসঙ্গে চাপ তৈরি করতে হয়। একজন খেলোয়াড়ও যদি প্রেসিংয়ে দেরি করে বা দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করে, তাহলে পুরো পরিকল্পনা ভেঙে পড়তে পারে। তাই খেলোয়াড়দের মধ্যে একই চিন্তা ও একই ছন্দ তৈরি করাই এখন তার বড় লক্ষ্য।
এই কাজের জন্য ভিডিও অ্যানালিসিস ব্যবহার করছেন ডুলি। অনুশীলনের ভিডিও দেখিয়ে খেলোয়াড়দের বোঝানো হচ্ছে, কোন পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল, কোথায় ভুল হয়েছে এবং পরেরবার কীভাবে সেটি এড়ানো যায়। তার লক্ষ্য, খেলোয়াড়দের মধ্যে পেশাদার মানসিকতা তৈরি করা।
বাংলাদেশে আসার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ডুলি। খেলোয়াড়ি জীবনের শুরুতে নিচু স্তরের ফুটবল থেকে উঠে এসে বড় মঞ্চে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা তার আছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কোচিংয়ে কাজে লাগাতে চান তিনি। ফিলিপাইনে কাজ করার অভিজ্ঞতার পর এশিয়ার ফুটবল নিয়েও তার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের খেলার ভিডিও দেখে তার মনে হয়েছে, এই দলকে তার শেখানো বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার চোখেও ডুলি শুরু থেকেই কাজের মধ্যে ডুবে আছেন। জামাল জানান, নতুন কোচ নিয়মিত মিটিং করছেন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলছেন এবং নিজের ধারণাগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই দলকে নতুন পরিকল্পনার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ডুলি নিজে খেলোয়াড়ি জীবনে ডিফেন্ডার ছিলেন। তাই গোল হজম করা তার একেবারেই অপছন্দ। জামালও জানিয়েছেন, বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলগুলো নিয়ে কোচ বিশেষভাবে কাজ করছেন। কোন পরিস্থিতিতে দল সহজে গোল খেয়েছে, কোথায় পজিশনিং ভুল হয়েছে, সেসব ভিডিও অ্যানালিসিসের মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে।
জামালের ভাষায়, ডুলি পাসিং ফুটবল পছন্দ করেন, প্রেসিং উন্নত করতে চান এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন গোল না খাওয়াকে। একজন সাবেক ডিফেন্ডার হিসেবে রক্ষণ সংগঠন নিয়ে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের জন্য বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে বলেও মনে করেন অধিনায়ক।
