logo

১০ জনের টটেনহামের সঙ্গে ড্র, ৪০ বছরের সবচেয়ে বাজে শুরু ইউনাইটেডের

১০ জনের টটেনহামের সঙ্গে ড্র, ৪০ বছরের সবচেয়ে বাজে শুরু ইউনাইটেডের
৪০ বছরে সবচেয়ে বাজে শুরু মাইকেল ক্যারিকের দলের। ছবি: রয়টার্স

এক গোলে এগিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রতিপক্ষ টটেনহামও তখন ১০ জনের দল। ওল্ড ট্রাফোর্ডে জয়ের জন্য এর চেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি আর কী হতে পারত! কিন্তু যোগ করা সময়ে ডমিনিক সলাঙ্কের এক হেডেই সব হিসাব পাল্টে গেল। হাতের মুঠোয় থাকা জয় ফসকে যাওয়ায় মৌসুমের শুরুতে ইউনাইটেডের হতাশা আরও বাড়ল।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ৭৩ মিনিটে ব্রায়ান এমবেউমোর গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সলাঙ্কের গোলে সমতা ফেরায় টটেনহাম।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে এগিয়ে ছিল টটেনহাম। তৃতীয় মিনিটেই গোলের সুযোগ পান সলাঙ্কে। ইউনাইটেড গোলরক্ষক সেন্নে লামেন্সের ভুল পাসের পর বল পেয়ে শট নেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। তবে নিজের ভুল সামলে তার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন লামেন্স।

এরপরও একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছে রবের্তো দে জেরবির দল। ২১ মিনিটে সাভিওর পাস থেকে মোহাম্মদ কুদুসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিরতির তিন মিনিট আগে কনর গ্যালাঘারের সামনে সুযোগ এলেও ইউনাইটেড রক্ষণ ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে নিজেদের মাঠে আক্রমণ গুছিয়ে নিতে ভুগেছে ইউনাইটেড। ৩৪ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে আমাদ দিয়ালোর শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন টটেনহাম গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কি। গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও শুরুতে সুযোগ নষ্ট করেছে টটেনহাম। ৫১ মিনিটে সাভিওর ক্রস থেকে কাছের দূরত্বে বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন সলাঙ্কে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ইউনাইটেড।

৭৩ মিনিটে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন এমবেউমো। ম্যাথিউস কুনিয়ার পাস পেয়ে বক্সের মধ্যে ঘুরে বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে পাঠান ক্যামেরুনের এই ফরোয়ার্ড।

পাঁচ মিনিট পর টটেনহামের বিপদ আরও বাড়ে। লুক শয়ের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ের পর উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বেন্তানকুরকে ধাক্কা দেন শ। এরপর ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডারের দিকে মাথা দিয়ে আঘাতের ভঙ্গি করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার রদ্রিগো বেন্তানকুর। একই ঘটনায় হলুদ কার্ড দেখেন শ ও ইয়ান পল ফন হেকে।

একজন বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ পেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ইউনাইটেড। ৮৬ মিনিটে এমবেউমোর আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন টটেনহাম গোলরক্ষক কিনস্কি।

এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে ইউনাইটেডের জন্য বড় ধাক্কা। সান্দ্রো তোনালির ক্রসে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বাধা সামলে হেডে সমতা ফেরান সলাঙ্কে। তার সেই গোলেই ওল্ড ট্রাফোর্ড থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরে ১০ জনের টটেনহাম।

অবশ্য ম্যাচজুড়ে সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল সফরকারীরাই। পরিসংখ্যানবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অপটার হিসাবে, ম্যাচে চারটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে টটেনহাম। বিপরীতে ইউনাইটেড তৈরি করতে পেরেছে মাত্র একটি।

ছয় ম্যাচে মাত্র এক জয় ও তিন ড্রয়ে ইউনাইটেডের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের পর লিগের প্রথম ছয় ম্যাচে এত কম পয়েন্ট পায়নি দলটি। অর্থাৎ ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে শুরু করেছে ইউনাইটেড। ঘরের মাঠে ১০ জনের প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও জয় না পাওয়ায় কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর চাপ আরও বাড়ল।