logo

ম্যারাডোনার মৃত্যুতে ৬ বছর পর নতুন মোড়

ম্যারাডোনার মৃত্যুতে ৬ বছর পর নতুন মোড়
দিয়েগো ম্যারাডোনা। ছবি: গেটি ইমেজ

দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পর নতুন একটি সম্ভাবনার কথা উঠল আদালতে। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির মৃত্যুতে করোনাভাইরাসের ভূমিকা ছিল কি না, সেটি নিশ্চিতভাবে উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পাবলো ফেরারি। ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চলমান দ্বিতীয় বিচারের শেষ সাক্ষী হিসেবে মঙ্গলবার সান ইসিদ্রোর আদালতে এ কথা বলেন তিনি।

ফেরারির মতে, ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের সময় করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা না করাটা ছিল ‘পদ্ধতিগত ভুল’। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর যখন ম্যারাডোনা মারা যান, তখন বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি চলছিল।

আদালতে তিনি বলেন, ‘কোভিডে তার মৃত্যু হয়েছিল, সেই সম্ভাবনা আমরা উড়িয়ে দিতে পারি না।’ করোনাভাইরাস শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে অল্প সময়ের মধ্যেও গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন এই বিশেষজ্ঞ।

তবে ফেরারির বক্তব্যকে ম্যারাডোনার মৃত্যুর নতুন প্রমাণিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি তার ফরেনসিক মূল্যায়ন ও একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। এখন পর্যন্ত আদালত কিংবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ হিসেবে কোভিডকে নিশ্চিত করেনি।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগের সময় নিয়েও আগের মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন ফেরারি। তার মতে, মৃত্যুর আগে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা যন্ত্রণায় ভোগেননি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। বরং তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে কয়েক মিনিট থেকে সর্বোচ্চ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।

ফেরারির ভাষায়, ‘এটি ছিল আকস্মিক মৃত্যু।’ তার ব্যাখ্যায়, হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা হঠাৎ ভেঙে পড়ার পর ফুসফুসে তরল জমে তীব্র পালমোনারি এডিমা তৈরি হয় এবং এর পরিণতিতে কার্ডিওরেসপিরেটরি অ্যারেস্টে মৃত্যু হয় ম্যারাডোনার।

এই বক্তব্য মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগের মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত ছিল, ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার অবনতি দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল এবং মৃত্যুর আগে সতর্কসংকেত ছিল। সেই মূল্যায়নের বিপরীতে ফেরারি বলছেন, ঘটনাটি ছিল অনেক দ্রুত ও আকস্মিক। এর আগে মামলার অন্য কয়েকজন বিশেষজ্ঞ অবশ্য আবার আকস্মিক মৃত্যুর তত্ত্বের বিরোধিতা করেছেন।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের বাইরে একটি বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। মৃত্যুর আগে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়েছিল এবং এরপর বাড়িতেই চলছিল পুনর্বাসন ও চিকিৎসা।

ফেরারির সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিচারের সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রেখেছে আদালত। সেদিন অভিযুক্তদের মধ্যে যারা বক্তব্য দিতে চান, তাদের কথা শোনার কথা। এরপর অক্টোবরে শুরু হবে উভয় পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক।