সিটির আপিলের শেষ সময় শুক্রবার; লড়াইয়ের যুক্তি প্রকাশ্যে

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে রায় এসেছে, এবার শুরু হচ্ছে পাল্টা লড়াই। গুরুতর আর্থিক বিধিভঙ্গের দায়ে স্বাধীন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুক্রবারের মধ্যে আপিল করতে হবে ইংলিশ ক্লাবটিকে। আর সেই আইনি লড়াইয়ে সিটির অন্যতম বড় যুক্তি হচ্ছে বিতর্কিত পৃষ্ঠপোষকতার অর্থ শেখ মনসুর বা ক্লাবের মালিকপক্ষের নয়, এসেছে আবুধাবি সরকারের কাছ থেকে।
প্রিমিয়ার লিগ মঙ্গলবার জানায়, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত নয় মৌসুমে গুরুতর আর্থিক বিধিভঙ্গের সব অভিযোগে সিটিকে দোষী পেয়েছে স্বাধীন কমিশন। তদন্তে সহযোগিতা না করার চার অভিযোগের তিনটিও প্রমাণিত হয়েছে। তবে এখনো কোনো শাস্তি ঘোষণা হয়নি।
কমিশনের রায়ের কেন্দ্রে রয়েছে সিটির কয়েকটি বাণিজ্যিক ও পৃষ্ঠপোষকতা চুক্তি। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কিছু পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান চুক্তির অর্থের কেবল একটি অংশ দিয়েছিল। বাকি অর্থ এসেছিল শেখ মনসুরের মালিকানাধীন আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ (এডিইউজি) থেকে।
সেই অর্থকে পৃষ্ঠপোষকতা আয় হিসেবে দেখিয়ে সিটি রাজস্ব বাড়িয়েছে এবং ব্যয় কম দেখিয়েছে বলে কমিশনের সিদ্ধান্ত। সব মিলিয়ে এর আর্থিক প্রভাব ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বলে জানিয়েছে প্রিমিয়ার লিগ।
তবে আপিলে এই ব্যাখ্যাই চ্যালেঞ্জ করতে যাচ্ছে সিটি। দ্য টাইমস এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাবটির আইনজীবীরা দাবি করবেন বিতর্কিত অর্থ এডিইউজি বা শেখ মনসুর দেননি, বরং তা এসেছে আবুধাবি সরকারের কাছ থেকে।
সিটির যুক্তি হতে পারে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান একটি ফুটবল ক্লাবকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারবে না প্রিমিয়ার লিগের নিয়মে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে অর্থের উৎসকে মালিকপক্ষের গোপন অর্থায়ন হিসেবে দেখানোর সিদ্ধান্তও তারা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।
বিশেষ করে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে এই যুক্তি সামনে আনা হতে পারে। সিটির দাবি, তাদের কাছে ব্যাংক নথি ও সাক্ষ্য রয়েছে, যা অর্থের উৎস সম্পর্কে নিজেদের অবস্থানকে সমর্থন করে। যদিও আপিলের পূর্ণাঙ্গ যুক্তি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
স্বাধীন কমিশন শুনানিতে অবশ্য এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি। তাদের সিদ্ধান্ত ছিল, বাণিজ্যিক অংশীদারদের মাধ্যমে দেখানো অর্থের বড় অংশ প্রকৃতপক্ষে এডিইউজির অর্থ এবং সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে মালিকপক্ষের অর্থকে বাণিজ্যিক আয় হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সিটি শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এদিকে ক্লাবটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইতিহাদ এয়ারওয়েজও কমিশনের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়েছে। নিজেদের কোনো অনিয়মে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে প্রিমিয়ার লিগের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার আপিল করা হলে নিয়ম অনুযায়ী ১২ সপ্তাহের মধ্যে শুনানি হওয়ার কথা। শুনানি শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিধানও রয়েছে। তবে মামলার নথির পরিমাণ ও আইনি জটিলতার কারণে এই সময়সীমা বাস্তবে মানা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রীড়া আইন বিশেষজ্ঞরা।
শাস্তির বিষয়টি হবে আলাদা শুনানিতে। জরিমানা, পয়েন্ট কর্তন থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন সম্ভাব্য নানা শাস্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে কমিশন এখনো কোনো শাস্তি নির্ধারণ করেনি।
তাই আপাতত সিটির সবচেয়ে বড় লড়াই শুক্রবারের আপিল। সেই আপিলেই ঠিক হবে, কমিশনের রায় কতটা টিকে থাকে এবং পরবর্তী শাস্তির পথ কতটা কঠিন হয়।
