logo

রিয়ালের সঙ্গে বিরোধে এবার নতুন বিপদে তেবাস

রিয়ালের সঙ্গে বিরোধে এবার নতুন বিপদে তেবাস
লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। ছবি: গেটি ইমেজ

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে বিরোধের জেরে এবার স্পেনের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েছেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। ক্লাবটির প্রচারকৌশলকে নাৎসি জার্মানির সঙ্গে তুলনা করায় তার বিরুদ্ধে নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে স্পেনের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সিএসডি)। এমন খবর শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তেবাস।

স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফই শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে জানিয়েছে, তেবাসের বিতর্কিত মন্তব্যের পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সিএসডি। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

খবরটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেবাস লিখেছেন, ‘আমার মন্তব্যের জন্য সিএসডি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে, এমন খবর বিশ্বাসই করতে পারছি না। যদি সত্যিই তা হয়, আশা করি তারা আগে আমার লেখা পড়বে এবং অতীতের কিছু ঘটনাও পর্যালোচনা করবে।’

নিজের অবস্থানের পক্ষে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গও টেনেছেন তেবাস। রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের অতীতের মন্তব্যের উদাহরণ দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, একই ধরনের বিতর্কিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া হচ্ছে কেন। তার ভাষায়, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কারও পদবির ওপর নির্ভর করতে পারে না।’

বিতর্কের সূত্রপাত শুক্রবার তেবাসের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট থেকে। সেখানে রিয়াল মাদ্রিদ টিভির সমালোচনা করতে গিয়ে ক্লাবটির প্রচারকৌশলের সঙ্গে নাৎসি জার্মানির প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের ব্যবহৃত কৌশলের তুলনা করেন তিনি।

তেবাসের অভিযোগ, রিয়াল মাদ্রিদ টিভি নিজেদের সুবিধামতো রেফারির সিদ্ধান্ত তুলে ধরে, বারবার ক্লাবটির প্রতি অবিচারের কথা প্রচার করে এবং প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে তার দাবি, এই তুলনা নাৎসি মতাদর্শ কিংবা রিয়ালের সমর্থকদের উদ্দেশে নয়, কেবল প্রচারের কৌশল নিয়ে।

এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগা সভাপতি এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতির পদ থেকে তেবাসের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করে ক্লাবটি। রিয়ালের মতে, ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে থেকে এমন মন্তব্য করা অগ্রহণযোগ্য।

পাল্টা জবাবে রিয়ালের বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগ তোলেন তেবাস। তার দাবি, ক্লাবটির নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করে আসছে।

দুই পক্ষের এই বিরোধের মধ্যেই এবার সামনে এসেছে সিএসডির সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিষয়টি। তবে তেবাসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।