মেসির সম্মাননার মাঝেই ডি মারিয়ার নামে স্লোগান

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর পুরো আর্জেন্টিনাজুড়ে চলছিল তাকে সম্মান জানানোর আয়োজন। কিন্তু সেই আয়োজন যখন গিয়ে পড়ল রোজারিওর সবচেয়ে উত্তপ্ত ফুটবল দ্বৈরথে, তখন দেখা গেল ভিন্ন দৃশ্য। রোজারিও সেন্ট্রাল ও নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের ডার্বিতে মেসির জন্য নির্ধারিত সম্মাননার সময়ই গ্যালারি থেকে ভেসে এল ‘ফিদেও, ফিদেও’ স্লোগান। নিজেদের কিংবদন্তি অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকেই সামনে আনলেন সেন্ট্রাল সমর্থকেরা।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেসির ১০ নম্বর জার্সির প্রতি সম্মান জানাতে সপ্তাহান্তে দেশের সব ম্যাচের দশম মিনিটে খেলা থামিয়ে ৬০ সেকেন্ড করতালি দেওয়ার কথা ছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির অবসরের পর এই বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়।
রোববার গিগান্তে দে আর্রোয়িতোয় রোজারিও ডার্বিতেও দশম মিনিটে থামানো হয় খেলা। মাঠের খেলোয়াড় ও গ্যালারির একাংশ মেসির জন্য করতালি দেন। তবে সেন্ট্রালের সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। করতালির পাশাপাশি সেন্ট্রাল সমর্থকদের থেকে শোনা যায় কিছু শিসও। আর সেই মুহূর্তেই গ্যালারির বড় অংশ একসঙ্গে স্লোগান দিতে শুরু করে, ‘ফিদেও, ফিদেও।’
‘ফিদেও’ ডি মারিয়ার বহুল পরিচিত ডাকনাম। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা রোজারিও সেন্ট্রালেরই ঘরের ছেলে। বর্তমানে আবারও ক্লাবটির হয়ে খেলছেন তিনি। ফলে নিউয়েলসের সঙ্গে শহরের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে মেসির সম্মাননার সময় নিজেদের তারকাকে সামনে আনার সুযোগ ছাড়েননি সেন্ট্রাল সমর্থকেরা।
এর পেছনে রোজারিওর ফুটবল বিভাজনের ইতিহাসও বড় কারণ। মেসি ছোটবেলায় নিউয়েলসের যুব দলে খেলেছেন এবং ক্লাবটির সঙ্গে তার সম্পর্ক বরাবরই ঘনিষ্ঠ। নিউয়েলসের মার্সেলো বিয়েলসা স্টেডিয়ামের একটি গ্যালারিও তার নামে করা হয়েছে। ফলে সেন্ট্রালের মাঠে, তাও নিউয়েলসের বিপক্ষে ডার্বির মধ্যে মেসিকে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত ম্যাচের আগেই আলাদা কৌতূহল তৈরি করেছিল।
নিউয়েলস অবশ্য মেসিকে সম্মান জানাতে নিজেদের মতো করে প্রস্তুত হয়েছিল। ডার্বিতে তাদের জার্সিতে ছিল ‘গ্রাসিয়াস লিও’ লেখা বিশেষ প্যাচ, সঙ্গে মেসির মুখের ছবি। অধিনায়কের আর্মব্যান্ডেও একই বার্তা রাখা হয়।
তাই দশম মিনিটে দৃশ্যটা যেন রোজারিওর ফুটবল পরিচয়েরই প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। একদিকে আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে জাতীয় পর্যায়ের সম্মান, অন্যদিকে শহরের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের নিজস্ব আবেগ।
মাঠের লড়াইটিও শেষ পর্যন্ত নাটকীয় হয়। গাস্তন আভিলার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল রোজারিও সেন্ট্রাল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মাতিয়াস কোক্কারোর গোল প্রথমে অফসাইডে বাতিল হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় রোজারিও ডার্বি।



-ca2e12.webp)