logo

আরবেলোয়ার ছোঁয়ায় যেভাবে বদলে যাচ্ছে রিয়াল

আরবেলোয়ার ছোঁয়ায় যেভাবে বদলে যাচ্ছে রিয়াল

মাত্র দুই মাস—আর সেই সময়েই রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুম, খেলার ধরন আর আত্মবিশ্বাস সবকিছু বদলে দিতে শুরু করেছেন লস ব্লাঙ্কোসদের নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়া। যেখানে অনেকেই ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন, সেখানেই তার ছোঁয়ায় জ্বলে উঠছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ফেদেরিকো ভালভার্দের মতো তারকারা।

সাধারণত ফুটবলে বড় দলগুলোর মৌসুমের মাঝপথে দায়িত্ব নেওয়া সহজ নয়, বিশেষ করে যখন দলটির নাম রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু আলভারো আরবেলোয়া খুব অল্প সময়েই দেখিয়ে দিচ্ছেন, সঠিক ব্যবস্থাপনা আর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিলে তারকাদের সেরাটা বের করে আনা সম্ভব। 

জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চ্যালেঞ্জ ছিল বড়—ব্যস্ত সূচি, ড্রেসিংরুমে বড় বড় নাম, সময়ের অভাব। কিন্তু আরবেলোয়া শুরু থেকেই সম্পর্ক গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন। দুই মাসের মধ্যেই তার ফলও দেখা যাচ্ছে মাঠে। 

মার্চে তার অধীনে রিয়াল জিতেছে জোসে মোরিনহোর বেনফিকা, পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি এবং দিয়েগো সিমিওনের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। লা লিগায় এখনও বার্সেলোনার পেছনে থাকলেও শিরোপা দৌড়ে টিকে আছে দলটি, আর চ্যাম্পিয়নস লিগেও চলছে লড়াই। 

ভিনিসিয়ুসের পুনর্জন্ম

আরবেলোয়ার অধীনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের খেলায়। আগের কোচের সময় যেখানে তিনি ছন্দ হারিয়েছিলেন, এখন সেখানে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন।

নতুন কোচের অধীনে ১৭ ম্যাচের মধ্যে ১৬টিতে খেলেছেন তিনি এবং করেছেন ১১ গোল, যা আগের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর পারফরম্যান্স। আরবেলোয়ার মূল লক্ষ্য ছিল তাকে স্বাধীনভাবে খেলতে দেওয়া, চাপমুক্ত রাখা।

কোচ নিজেই বলেছেন, তিনি সেই ভিনিসিয়ুসকে দেখতে চান যে হাসে, উপভোগ করে, আনন্দ নিয়ে খেলে। এই মানসিক পরিবর্তনই তার পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলেছে।

ভালভার্দের ঘুরে দাঁড়ানো

ফেদেরিকো ভালভার্দেও ফিরে পেয়েছেন নিজের সেরা রূপ। আগের কোচের অধীনে কখনো রাইট-ব্যাকে খেলতে হওয়ায় ছন্দ হারালেও এখন আবার নিজের প্রিয় মিডফিল্ড পজিশনে খেলছেন।

ফলও মিলেছে দ্রুত, ১৭ ম্যাচে ৭ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট। বিশেষ করে এক মাসে ৬ গোল করে নিজের গুরুত্ব নতুন করে প্রমাণ করেছেন তিনি।

যুবাদের সুযোগ, নতুন দিগন্ত

আরবেলোয়ার আরেকটি বড় শক্তি তরুণদের সঙ্গে তার সংযোগ। রিয়াল মাদ্রিদের রিজার্ভ দলের কোচ থাকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি সহজেই একাডেমির খেলোয়াড়দের মূল দলে তুলে আনছেন।

সম্প্রতি এক ম্যাচে একাধিক তরুণকে সুযোগ দিয়েছেন তিনি, যেখানে ১৮ বছর বয়সি থিয়াগো পিটার্চ চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটে ইতিহাস গড়েছেন।

তবে চ্যালেঞ্জ এখনও শেষ হয়নি। সামনে ব্যস্ত সূচি, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, শিরোপার লড়াই সব মিলিয়ে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে রিয়ালের জন্য।

তবুও আরবেলোয়ার আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট তিনি এখন দলকে ভালোভাবে বুঝতে পারছেন, কোথায় কী পরিবর্তন দরকার তাও জানেন।

সব মিলিয়ে, খুব অল্প সময়েই রিয়াল মাদ্রিদে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছাপ ফেলেছেন আরবেলোয়া। এখন দেখার বিষয় এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিনি দলকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন।