স্পেনে মেসিকে ঘিরে হাজারো শিশুর উচ্ছ্বাস
-e12421-720x405.webp)
মঞ্চে পা রাখতেই চারদিক থেকে ভেসে এল ‘মেসি-মেসি’ ধ্বনি। গ্যালারিতে আর্জেন্টিনার পতাকা, গায়ে নীল-সাদা জার্সি। প্রিয় ফুটবলারকে সামনে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল হাজারো শিশু-কিশোর। স্পেনের ওভিয়েদো শহরে এমনই এক সংবর্ধনা পেলেন লিওনেল মেসি। প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার গ্রহণ করতে স্পেনে যাওয়া আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে ঘিরে তৈরি হলো উৎসবের আবহ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেলে ওভিয়েদোর প্যালাসিও দে লোস দেপোর্তেসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন মেসি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ছয় হাজার দর্শক, যাদের বড় অংশই শিশু-কিশোর। মেসি মঞ্চে উঠতেই করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্রীড়াঙ্গন। শিশুদের এমন ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মেসি বলেন, ‘অনেক দিন পর স্পেনে এসে আবারও এত ভালোবাসা পাওয়া সত্যিই অনেক আনন্দের। আপনাদের সঙ্গে এখানে থাকতে পারাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের। আশা করি, একসঙ্গে সময়টা ভালো কাটবে।’
মূলত প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশনের ‘তোমা লা পালাব্রা’ সাংস্কৃতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠান। এতে ‘এল হুয়েগো দেল দিয়েস’ বা ‘দশ নম্বরের খেলা’ নামের বিশেষ কার্যক্রমে অংশ নেয় আস্তুরিয়াস অঞ্চলের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী। মেসির ফুটবলজীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে খেলাটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, আনন্দদায়ক ও সম্মানজনক করে তুলতে নতুন কিছু নিয়ম তৈরি করেছিল তারা।
শিক্ষার্থীরা ফুটবলের জন্য নয়টি নিয়ম তৈরি করলেও দশম নিয়মটি ঠিক করার দায়িত্ব রাখে মেসির জন্য। সেই নিয়ম হিসেবে আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, ফলাফল যা-ই হোক না কেন, ফুটবল উপভোগ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ফুটবল শুধু জয়-পরাজয়ের খেলা নয়, এটি আনন্দ দেয়, বন্ধুত্ব তৈরি করে এবং মানুষকে এক করে।
শুধু জয়ের পেছনে ছুটতে গিয়ে খেলার আনন্দ হারিয়ে না ফেলার পরামর্শও দেন মেসি। তার মতে, ছোটদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। অনেক সময় অভিভাবকদের প্রত্যাশা শিশুদের স্বাভাবিকভাবে খেলতে বাধা দেয়।
নিজের ছোটবেলার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন ইন্টার মায়ামির এই তারকা। বার্সেলোনায় ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে রোনালদিনিয়ো, স্যামুয়েল ইতোর মতো তারকাদের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন তিনি। মেসি জানান, স্বভাবগতভাবে কিছুটা লাজুক হওয়ায় শুরুতে তাদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। তবে সতীর্থদের উৎসাহ তাঁকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল।
অনুষ্ঠানে মেসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্পেনের সাবেক মিডফিল্ডার সান্তি কাজোরলাও। বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলার স্মৃতিচারণা করে তিনি জানান, প্রতিপক্ষ হিসেবে মেসিকে সামলানো কঠিন হলেও তার বিপক্ষে খেলতে সব সময়ই চাইতেন। কারণ সেরা ফুটবলারদের বিপক্ষে খেলাও একজন খেলোয়াড়ের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে আরও একটি স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেন মেসি। প্রতিবন্ধী ফুটবলারদের জন্য আয়োজিত লা লিগা জেনুইন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া রিয়াল ওভিয়েদো ও স্পোর্টিং গিজনের দুই খেলোয়াড়ের সঙ্গে মঞ্চে বল নিয়ে খেলেন তিনি। মেসির পাস থেকে গোলও করেন তাঁদের একজন। সেই দৃশ্য আবারও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসায়।
মেসিকে একনজর দেখার আগ্রহ ছিল এতটাই যে অনুষ্ঠানের জন্য সাধারণ দর্শকদের বরাদ্দ করা ৪ হাজার ৭০০টি টিকিট মাত্র ১৩ মিনিটেই শেষ হয়ে যায়। টিকিট সংগ্রহের জন্য একপর্যায়ে একই সঙ্গে অনলাইনে অপেক্ষায় ছিলেন ১৬ হাজারের বেশি মানুষ।
এবারের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন মেসি। ফুটবলে অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় তার অবদানকেও স্বীকৃতি দিয়েছে পুরস্কার কর্তৃপক্ষ।
আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ওভিয়েদোর তিয়াত্রো কাম্পোয়ামোরে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণের কথা রয়েছে মেসির। তার আগের দিন হাজারো শিশুর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে স্পেন সফরকে স্মরণীয় করে রাখলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

-217b46.webp)
-1c4fe0.webp)