চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের উৎসব ঘিরে প্যারিসে ২২ হাজার পুলিশ মোতায়েন

চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা ধরে রাখার আনন্দে প্যারিসের রাস্তায় নেমে পড়েন পিএসজি সমর্থকরা। তবে উৎসবের রাত পুরোপুরি শান্ত থাকেনি। শহরের কয়েকটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের উত্তেজনা ও ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করেছে পুলিশ, গ্রেপ্তার করা হয়েছে শতাধিক মানুষকে।
শনিবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরার মুকুট ধরে রাখে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। ম্যাচটি দেখতে পিএসজির ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে বড় পর্দার সামনে জড়ো হয়েছিলেন ৪০ হাজারের বেশি সমর্থক।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমের ফুটেজে পার্ক দে প্রিন্সেসের আশপাশে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা যায়। কোথাও কোথাও সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামলাতে প্যারিসের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগেই বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ রাজধানীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে। বড় ক্রীড়া ইভেন্টের পর সহিংসতা নিয়ে ফ্রান্সে আগে থেকেই সতর্কতা ছিল। গত বছর পিএসজি প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর উদ্যাপন ঘিরে সহিংসতায় দুজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছিলেন।
প্যারিসের বিখ্যাত শঁজেলিজে এলাকাতেও হাজারো সমর্থক জড়ো হন। কর্তৃপক্ষ এলাকাটির কিছু অংশ ঘিরে রাখলেও টিভি ফুটেজে বেশির ভাগ সমর্থককে শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন করতে দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল।
তবে কিছু সমর্থক আতশবাজি ফোটান ও ফ্লেয়ার জ্বালান। রাত ১১টার মধ্যে ১৩০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্যারিস পুলিশ। পুলিশের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, ছয়টি গাড়ি ও দুটি দোকানের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পিএসজির জন্য রাতটি ছিল ঐতিহাসিক। মাঠে আর্সেনালকে হারিয়ে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে লুইস এনরিকের দল। কিন্তু মাঠের বাইরে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে কিছু অস্থিরতা মিশে যাওয়ায় প্যারিসে উৎসবের রাত নিরাপত্তা বাহিনীর জন্যও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
তবু সামগ্রিকভাবে শহরের বড় অংশে উদ্যাপন ছিল আনন্দঘন। পিএসজির পতাকা, গান, স্লোগান আর আতশবাজিতে রাতভর সরব ছিল প্যারিস। ইউরোপ সেরার মুকুট ধরে রাখার পর সমর্থকদের উচ্ছ্বাসই বুঝিয়ে দিয়েছে, পিএসজির এই সাফল্য ক্লাবটির জন্য কতটা বড় আবেগের মুহূর্ত।
