৪২ বছর বয়সে বিশ্বকাপ রেকর্ডের সামনে কাতারের সোরিয়া

বিশ্বকাপের মঞ্চে বয়স কখনও কখনও শুধু সংখ্যা হয়ে যায়। রজার মিলা সেটি দেখিয়েছিলেন ১৯৯৪ সালে। এবার সেই ইতিহাস ছোঁয়া, এমনকি ছাড়িয়ে যাওয়ার সামনে দাঁড়িয়ে কাতারের সেবাস্তিয়ান সোরিয়া। ৪২ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ডকে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে রেখেছেন কাতার কোচ হুলেন লোপেতেগি।
উরুগুয়ে বংশোদ্ভূত সোরিয়া যদি শেষ পর্যন্ত কাতারের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে জায়গা পান এবং বিশ্বকাপে মাঠে নামেন, তাহলে তিনি হয়ে যাবেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড়। এই রেকর্ড এখন ক্যামেরুন কিংবদন্তি রজার মিলার দখলে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ৪২ বছর বয়সে খেলেছিলেন মিলা।
কাতারের ৩৪ সদস্যের প্রাথমিক দলে জায়গা পাওয়ার পর সোরিয়া নিজের উচ্ছ্বাস লুকাননি। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পর তিনি বলেন, ‘আল আনাবির জার্সি আবারও পরতে পেরে এবং এই সুন্দর দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত।’
সোরিয়ার সামনে অবশ্য শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, কাতারের বিশ্বকাপ অভিযানের বড় দায়িত্বও আছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে কাতার পড়েছে গ্রুপ ‘বি’-তে। ১৩ জুন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু হবে। এরপর কাতারের প্রতিপক্ষ কানাডা ও বসনিয়া।
সোরিয়া যদি রজার মিলার রেকর্ড ভাঙেন, সেটি বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘায়ুর নতুন আলোচনাও খুলে দেবে। বিশেষ করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য। পর্তুগিজ মহাতারকা ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে ৪১ বছরে পা রাখবেন। এখনও গোল করছেন, খেলছেন, রেকর্ডের পেছনে ছুটছেন। তাই সোরিয়ার ৪২ বছর বয়সে বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা রোনালদোর ২০৩০ স্বপ্নকেও নতুনভাবে আলোচনায় আনছে।
UN URUGUAYO DE 42 AÑOS PUEDE BATIR UN RÉCORD HISTÓRICO EN EL MUNDIAL
— Montevideo Portal (@portalmvd) May 12, 2026
El atacante nacido en Paysandú fue incluido en la lista preliminar de Catar. Si queda entre los 26 convocados y juega, puede ser el jugador de campo más veterano en disputar un Mundial.
Quién es
Sebastián… pic.twitter.com/VF60aQU0EY
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের সামগ্রিক রেকর্ড অবশ্য এখনো মিসরের গোলরক্ষক এসাম এল-হাদারির। ২০১৮ বিশ্বকাপে তিনি খেলেছিলেন ৪৫ বছর ১৬১ দিন বয়সে। সোরিয়া আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের রেকর্ড ভাঙতে পারেন, কিন্তু এল-হাদারির রেকর্ড ভাঙতে হলে রোনালদোকে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলতে হবে। তখন তার বয়স হবে ৪৫।
রোনালদোর ক্ষেত্রে অসম্ভব শব্দটি ব্যবহার করাও কঠিন। ক্যারিয়ারে ৯৭১ গোল করা এই ফরোয়ার্ড এখনো ১ হাজার গোলের মাইলফলকের পেছনে ছুটছেন। আর মাত্র ২৯ গোল করলেই সেই অভূতপূর্ব রেকর্ডে পৌঁছে যাবেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও তিনি সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, পর্তুগালের হয়ে ২২৬ ম্যাচে তার গোল ১৪৩টি।
ব্যক্তিগত রেকর্ডের ভান্ডার পূর্ণ হলেও রোনালদোর ক্যারিয়ারে এখনো একটি বড় অপূর্ণতা আছে, বিশ্বকাপ। ২০১৬ ইউরো জিতেছেন, জিতেছেন দুটি উয়েফা নেশনস লিগ। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো অধরা। ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। গ্রুপ ‘কে’-তে তাদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।