logo

বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল্ডেন গোলের গল্প

বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল্ডেন গোলের গল্প

বিশ্বকাপের ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত আছে, যেগুলো এক সেকেন্ডেই পুরো ম্যাচের গল্প বদলে দেয়। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে এমনই এক মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল শেষ ষোলোর এক ম্যাচে। মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে।

 

সেই সময় বিশ্বকাপে ছিল গোল্ডেন গোলের নিয়ম। অতিরিক্ত সময়ে যে দল আগে গোল করবে, ম্যাচ তারাই জিতবে। কোনো ফিরে আসার সুযোগ নেই, কোনো দ্বিতীয় সুযোগ নেই। একটি গোল মানেই সঙ্গে সঙ্গে বিদায়।

 

ফ্রান্স ছিল স্বাগতিক দল, তারকায় ভরা। জিদান, দেসাই, দেশম, লিজারাজু, বার্তেজদের দল। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে ছিল লড়াকু, রক্ষণভিত্তিক এবং ভীষণ কঠিন প্রতিপক্ষ। গোলপোস্টে ছিলেন হোসে লুইস চিলাভার্ট, যিনি শুধু গোলরক্ষক নন, ছিলেন দলের নেতা এবং আলাদা চরিত্রের এক ফুটবলার।

 

ম্যাচটা শুরু থেকেই কঠিন ছিল ফ্রান্সের জন্য। প্যারাগুয়ে নিচে নেমে রক্ষণ শক্ত করে, জায়গা বন্ধ করে, ফ্রান্সকে ধৈর্য হারাতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। স্বাগতিকদের আক্রমণ ছিল, চাপ ছিল, কিন্তু গোল আসছিল না।

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয় গোলশূন্যভাবে।

 

তারপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। নিয়ম ছিল স্পষ্ট, এখন একটি গোলই সব শেষ করে দিতে পারে।

 

১১৪ মিনিটে সেই মুহূর্ত আসে। লরঁ ব্লাঁ প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভেঙে গোল করেন। আর গোল হতেই ম্যাচ শেষ। ফ্রান্স জিতে যায়। প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে যায় এক মুহূর্তে।

 

এটাই ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল্ডেন গোল।

 

আজকের ফুটবলে এই নিয়ম নেই। কিন্তু সেই সময় গোল্ডেন গোল ছিল ফুটবলের সবচেয়ে নির্মম নাটকীয়তার একটি। কারণ অতিরিক্ত সময়ে গোল খেলে আর ফিরে আসার সুযোগ থাকত না। ব্লাঁর সেই গোল শুধু ফ্রান্সকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলে না, বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়েরও জন্ম দেয়।

 

ফ্রান্স পরে সেই বিশ্বকাপ জিতে নেয়। কিন্তু প্যারাগুয়ের জন্য সেই ম্যাচ থেকে যায় আক্ষেপের গল্প হয়ে। তারা প্রায় পুরো ম্যাচ ধরে স্বাগতিকদের আটকে রেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি মুহূর্ত, একটি ভুল, একটি গোল সব বদলে দেয়।

 

ফুটবল কখনো কখনো এমনই। আপনি ১১৩ মিনিট ধরে ম্যাচে থাকতে পারেন, প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে পারেন, কিন্তু ১১৪তম মিনিটে ইতিহাস আপনার বিপক্ষে চলে যেতে পারে।