logo

রোনালদোর দীর্ঘ অভিযোগ পড়ে জেসুস: ‘আমার আর কিছু বলার নেই’

রোনালদোর দীর্ঘ অভিযোগ পড়ে জেসুস: ‘আমার আর কিছু বলার নেই’
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও হোর্হে জেসুস। ছবি: ফুটবলঅ্যারেনার এক্স হ্যান্ডেল

একদিকে প্রায় ২০০০ শব্দের দীর্ঘ ব্যাখ্যা ও একের পর এক অভিযোগ, অন্যদিকে কয়েক সেকেন্ডের উত্তর। পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও কোচ হোর্হে জেসুসের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সর্বশেষ অধ্যায়টাকে ঠিক এভাবেই ব্যাখ্যা করা যায়।

রোনালদোর দীর্ঘ বিবৃতি পড়েও পাল্টা তর্কে গেলেন না জেসুস। বুধবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের জানালেন, এখন তার মনোযোগ জাতীয় দলের কাজেই। রোনালদোর অভিযোগ নিয়ে এর বেশি কিছু বলতে চান না তিনি।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেন রোনালদো। পর্তুগাল শিবির ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জাতীয় দলের কোচ জেসুসের বিরুদ্ধে দুবার কথা না রাখার অভিযোগ তোলেন তিনি।

সেদিন রাতে পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-২১ দলের ম্যাচ দেখে বাড়ি ফেরার সময় জেসুসকে রোনালদোর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তখনও বিবৃতিটি পড়েননি জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, আগে সেটি পড়বেন।

পরদিন সকালে বাড়ি থেকে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় আবারও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জেসুস। এবার তিনি নিশ্চিত করেন, রোনালদোর বক্তব্য পড়েছেন।

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম আরটিপির প্রতিবেদনে জেসুস বলেন, ‘বিবৃতিটি পড়েছি। এখন প্রতিদিনের মতো ফেডারেশনে কাজে যাচ্ছি, দল ও পর্তুগাল জাতীয় দল নিয়ে ভাবতে। আমার আর কিছু বলার নেই।’

এরপর আর কোনো প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেননি পর্তুগাল কোচ।

রোনালদোর সঙ্গে জেসুসের বিরোধের সূত্রপাত নেশনস লিগের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে। রোনালদোর দাবি, তার বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় কোন ম্যাচে কতটা খেলবেন, তা নিয়ে কোচের সঙ্গে আগে থেকেই আলোচনা হয়েছিল।

৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, নরওয়ের বিপক্ষে প্রথমে তাকে না খেলানোর পরিকল্পনা থাকলেও পরে প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য মাঠে নামানোর কথা জানান জেসুস। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গা গরম করলেও শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয়নি তাকে। রোনালদোর দাবি, সেখানেই প্রথমবার নিজের দেওয়া কথা রাখেননি জেসুস।

পরে বিষয়টি নিয়ে রোনালদো, জেসুস এবং সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের মধ্যে আলোচনা হয়। রোনালদোর দাবি, পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে সংবাদ সম্মেলনে আটটি নির্দিষ্ট বিষয় তুলে ধরার ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনি খেলার সময় দাবি করেননি এবং কোচের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন, এমন বিষয়ও থাকার কথা ছিল।

তবে সংবাদ সম্মেলনে সেই সমঝোতা অনুযায়ী কথা বলা হয়নি বলে অভিযোগ রোনালদোর। জেসুসের বক্তব্যের ধরনকেও নিজের প্রতি অসম্মানজনক মনে হয়েছে বলে জানান তিনি। এরপরই পর্তুগাল শিবির ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনার দায় অবশ্য পুরোপুরি কোচের ওপর চাপাননি রোনালদো। শিবির ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিজের ছিল উল্লেখ করে সতীর্থ ও পর্তুগালের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। ফেডারেশন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে সেটিও মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে জাতীয় দলের দরজা নিজে থেকে বন্ধ করেননি পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ক্লাব পর্যায়ে নিয়মিত খেলতে পারলে, শারীরিকভাবে ভালো থাকলে এবং জাতীয় দলের প্রয়োজন হলে আবারও পর্তুগালের হয়ে খেলতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

রোনালদোর অভিযোগের অবশ্য ভিন্ন ব্যাখ্যাও দিয়েছেন জেসুস। বিবৃতি প্রকাশের আগেই তিনি বলেছিলেন, খেলার সময় নিয়ে রোনালদোর সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি ছিল না। একই সঙ্গে রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার পথও খোলা রেখেছিলেন তিনি।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সাও ঘটনাটিকে ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করে রোনালদোর গুরুত্বের কথা বলেছিলেন।