অনাস্থার মুখে থাকা ইনফান্তিনোর পাশে দাড়ালেন ইতো

চাপের মুখে থাকা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্যামেরুন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও কিংবদন্তি ফুটবলার স্যামুয়েল ইতো। ক্যামেরুনের কিংবদন্তি এই ফুটবলারের দাবি, ২০২৭ সালের নির্বাচন সামনে রেখেই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিরোধিতা তীব্র হয়ে উঠেছে।
আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা সভাপতি নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হচ্ছেন ইনফান্তিনো। সম্প্রতি ফিফার টুর্নামেন্ট স্বত্ব পরিচালনাকারী একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ অংশীদারত্ব বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব থেকে সরে আসে ফিফা।
এরপর কয়েকটি দেশ ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও কনকাকাফও তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
তবে বিষয়টিকে আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়েই দেখছেন ইতো। সোমবার প্রচারিত সিএনএনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সময়টার কারণেই এসব হচ্ছে। সামনে নির্বাচন এবং জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সেখানে প্রার্থী। নির্বাচন আসছে বলেই সবকিছু ঘটছে। এর বাইরে কিছু নেই।’
ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর-মধ্য আমেরিকার আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে ইনফান্তিনোকে সরানোর আলোচনা চললেও এখনো তার পাশে রয়েছে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন। চলতি মাসের শুরুতে সংস্থাটির সভাপতি পাত্রিস মোতসেপে জানিয়েছিলেন, ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ ২০২৭ সালের নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ফিফা সভাপতির প্রতি আফ্রিকার সমর্থনও নিশ্চিত করেন তিনি।
ক্যামেরুনের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইতো মনে করেন, ইনফান্তিনোর সময়ে এমন অনেক দেশ ফুটবলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, যারা আগে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল।
বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান ও চেলসির সাবেক এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘সভাপতির কাজ ফুটবলকে আরও সামনে নিয়ে যাওয়া এবং সব দেশকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। ইনফান্তিনো সেটিই করেছেন।’
ফিফার বিতর্কিত বাণিজ্যিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ ছিল বলেও মনে করেন ইতো, ‘তিনি একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফিফার ২১১ সদস্যের উচিত ছিল বসে তা নিয়ে আলোচনা করা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া। কিন্তু যেসব কণ্ঠ সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে, আমি নিশ্চিত তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়।’
দেশগুলোর সমর্থন প্রত্যাহার এবং সম্ভাব্য অনাস্থা প্রস্তাবের কারণে ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো। তবে আফ্রিকার সমর্থন তার অবস্থানকে এখনো শক্তিশালী করে রেখেছে।



