logo

চীনের সঙ্গে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

চীনের সঙ্গে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

মহাদেশীয় মঞ্চে ৪৬ বছর পর প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে হার মেনে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ফলাফলে ব্যবধান হয়তো স্কোরলাইন ২-০, তবে ম্যাচটি যারা দেখেছেন তাদের কেউই বলতে পারবে না বাংলাদেশের লড়াইয়ে ঘাটতি ছিল। 

ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে প্রাধান্য দেখায় চীন। হাইলাইন ডিফেন্স রেখে চাপ ধরে রাখে তারা। চতুর্থ মিনিটেই পায় প্রথম কর্নার। পরের কয়েক মিনিটে উইং ধরে একাধিক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

১৪ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগটি আসে বাংলাদেশের পক্ষে। বাঁ প্রান্তে জায়গা পেয়ে ঋতুপর্ণা চাকমার দূরপাল্লার শট জালে ঢোকার মুখে লাফিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক চেন চেন। চার মিনিট পর বক্সের ভেতর থেকে শট নেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ওয়াং ‍সুয়াং। গোলকিপার মিলি আক্তার বল ঠেকালেও লাইনের কাছে বিপদ তৈরি হয়েছিল; শেষ মুহূর্তে ডাইভ দিয়ে ক্লিয়ার করে শিউলি আজিম দলকে রক্ষা করেন।

২৪ মিনিটে জিন কুনের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ওয়াং সুয়াং, কিন্তু ভিএআরে অফসাইড ধরা পড়ায় গোল বাতিল হয়। প্রায় চার মিনিট পর সিদ্ধান্ত জানানো হয়— স্কোর তখনও ০–০।

প্রথমার্ধের শেষ ভাগে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নেয় চীন। ৪৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ভাসানো শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ওয়াং সুয়াং। যোগ করা সময়ের শুরুতেই ঝ্যাং রুইয়ের নিচু শট ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। বিরতির আগে আরও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন লিউ জিং।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়াতে রক্ষণ থেকে খেলোয়াড় তুলে মিডফিল্ড ও ফরোয়ার্ড লাইনে পরিবর্তন আনেন কোচ পিটার বাটলার। উমেলাহ মারমা ও শিউলি আজিমের জায়গায় নামেন তহুরা খাতুন ও হালিমা আক্তার। পরে নবীরন খাতুনের বদলে স্বপ্না রানীকেও নামানো হয়।

৪৬ মিনিটে ৩৬ গজ দূর থেকে ঋতুপর্ণার নেওয়া শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। ৬৮ মিনিটে ঝ্যাং চেংজুর দূরপাল্লার শট দারুণভাবে রুখে দেন মিলি। ৭৪ মিনিটে কর্নার থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পেনাল্টির আবেদন ওঠে; ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

৮৬ মিনিটে হালিমাকে তুলে মাঠে নামানো হয় সুইডেনপ্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিকা রানিয়াকে—এটাই ছিল বাংলাদেশের জার্সিতে তার অভিষেক।

শেষ দিকে চীন আরও একটি গোলের জন্য চাপ বাড়ালেও মিলির দৃঢ়তায় আর ব্যবধান বাড়েনি। দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা হয় আট মিনিট, তবে স্কোরলাইন অপরিবর্তিতই থাকে।

১৯৮০ সালের পর এই প্রথম এশিয়ান কাপে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ (নারী দলের ক্ষেত্রে এটাই অভিষেক)। ফলাফলে হার এলেও সংগঠিত রক্ষণ, মিলির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং মাঝেমধ্যে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ—সব মিলিয়ে সাহসী পারফরম্যান্সের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে শারীরিক সামর্থ্য ও গতি এই দুই জায়গায় ব্যবধান স্পষ্ট ছিল।