রিয়ালের কোচ হিসেবে মরিনহোকেই পছন্দ পেরেজের

রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে আবারও ফিরতে পারেন হোসে মরিনহো। আলভারো আর্বেলোয়ার জায়গায় নতুন কোচ নিয়োগের পরিকল্পনায় ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছেন পর্তুগিজ এই কোচ।
জানুয়ারিতে জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করার পর অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আর্বেলোয়াকে। তবে মৌসুম শেষে তাকেও সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার নতুন কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছেন পেরেজ নিজেই।
গত মৌসুম শেষে কার্লো আনচেলত্তির উত্তরসূরি হিসেবে জাবি আলোনসোকে আনার প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ক্লাবের জেনারেল ম্যানেজার হোসে আনহেল সানচেস। পেরেজ তখন অনুমোদন দিলেও সামনে থেকে প্রক্রিয়া পরিচালনা করেননি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। টানা দ্বিতীয় মৌসুমে লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ কিংবা কোপা দেল রের মতো বড় শিরোপা ছাড়াই মৌসুম শেষ করার পথে রিয়াল। তাই নতুন প্রকল্প গড়ার দায়িত্ব নিজের হাতে নিতে চাইছেন ক্লাব সভাপতি।
মরিনহোর নাম সামনে আসার বড় কারণ তার সঙ্গে পেরেজের পুরোনো সম্পর্ক। ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন তিনি। সেই সময়ে তিনটি শিরোপা জিতেছিল রিয়াল, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ২০১১-১২ মৌসুমের লা লিগা জয়। সেবার রেকর্ড পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জিতেছিল মাদ্রিদের ক্লাবটি। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হয়নি মরিনহোর, যা রিয়ালে তার প্রথম অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা হয়ে আছে।
রিয়ালে মরিনহোর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন শুধু মাঠের পরিকল্পনার দিক থেকে নয়, আলোচনার কেন্দ্রেও ক্লাবকে ফিরিয়ে আনতে পারে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল ও আলোচিত কোচদের একজন তিনি। কঠিন মৌসুমের পর তার উপস্থিতি রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগা, দুই জায়গাতেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি করবে।
তবে ছবিটা একেবারে সরল নয়। রিয়াল মাদ্রিদের ভেতরে পেরেজ মরিনহোকে ফেরানোর পক্ষে থাকলেও সবাই এ বিষয়ে একমত নন। তার প্রথম মেয়াদে ড্রেসিংরুমে বিভাজন তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে তৎকালীন অধিনায়ক ইকের কাসিয়াসের সঙ্গে টানাপোড়েন সমর্থক ও স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের বড় অংশের ভালোভাবে নেয়নি।
সাম্প্রতিক সময়েও মরিনহো বিতর্কের বাইরে নেই। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনফিকার বিপক্ষে ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তোলার পর মরিনহোর মন্তব্য সমালোচনার জন্ম দেয়। ওই ঘটনায় বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। পরে উয়েফা তাকে বর্ণবাদী নয়, সমকামবিদ্বেষী আচরণের জন্য ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধ করে।
বর্তমানে বেনফিকার কোচ মরিনহো। গত সেপ্টেম্বর থেকে পর্তুগিজ ক্লাবটির দায়িত্বে আছেন তিনি। তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে চুক্তিতে প্রায় ৩০ লাখ ইউরোর একটি ধারা আছে, যার মাধ্যমে মৌসুমের শেষ ম্যাচের ১০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষের যেকোনো এক পক্ষ চুক্তি ভাঙতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিয়াল মাদ্রিদ বারবার এমন কোচদের দিকে ফিরেছে, যাদের সঙ্গে ক্লাবের আগের সম্পর্ক আছে। জিনেদিন জিদান ২০১৯ সালে ফিরেছিলেন দ্বিতীয় মেয়াদে। আনচেলত্তিও ২০২১ সালে বার্নাব্যুতে ফেরেন। রাফায়েল বেনিতেজ, হুলেন লোপেতেগি, জাবি আলোনসো ও আর্বেলোয়ার ক্ষেত্রেও ক্লাবের সঙ্গে পূর্বসম্পর্ক ছিল।
মরিনহো ছাড়াও রিয়ালের সম্ভাব্য কোচের তালিকায় আরও কয়েকটি নাম ঘুরছে। যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোকে বিবেচনা করেছে ক্লাবটি। অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের নামও এসেছে। ইয়ুর্গেন ক্লপ বহুদিন ধরেই রিয়াল কর্তাদের পছন্দের কোচদের একজন, যদিও সাবেক লিভারপুল কোচ একাধিকবার বলেছেন, রেড বুলের গ্লোবাল হেড অব সকার পদেই তিনি সন্তুষ্ট।
সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী কোচ প্রশ্নে মরিনহো এখন সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি। পেরেজ তাকে ফেরাতে আগ্রহী, কিন্তু ক্লাবের ভেতরের আপত্তি, মরিনহোর অতীত বিতর্ক এবং বর্তমান চুক্তি, সব মিলিয়ে সিদ্ধান্তটা সহজ হবে না।