মেসির তাণ্ডবে ৭-১ এর স্মৃতি ফিরিয়ে আনল মায়ামি

ফুটবলে ৭-১ এখন আর নিছক একটি স্কোরলাইন নয়। সংখ্যাটি দেখলেই ফিরে আসে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই অবিশ্বাস্য সেমিফাইনাল, যেখানে নিজেদের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল ব্রাজিল। ১২ বছর পর আরেকটি ৭-১ এর রাতে আলো কেড়ে নিলেন ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি।
মেজর লিগ সকারে সিএফ মন্ট্রিয়লকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইন্টার মায়ামি। চার গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করেছেন মেসি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর ক্লাব রেকর্ড গড়া জয় পেল ফ্লোরিডার দলটি।
ম্যাচের ২০ মিনিটে কাসেমিরোর হেডে এগিয়ে যায় মায়ামি। নতুন ক্লাবের হয়ে এটিই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের প্রথম গোল। ৩৭ মিনিটে ফাবিয়ান হারবার্স মন্ট্রিয়লকে সমতায় ফেরালেও সেটি টিকেছিল মাত্র তিন মিনিট। ফ্রি-কিক থেকে নিজের প্রথম গোল করে মায়ামিকে আবার এগিয়ে দেন মেসি।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় আর্জেন্টাইন তারকার আসল প্রদর্শনী। ৫২ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ এক গোলে ব্যবধান বাড়ান তিনি। এরপর তার নিখুঁত পাস থেকে ৮০ মিনিটে গোল করেন লুইস সুয়ারেজ। তিন মিনিট পর নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি।
৮৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় আলেক্সান্ডার শ গোল করলে স্কোরলাইন হয় ৬-১। তবু মেসির গোলক্ষুধা মেটেনি। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আরও একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে নিজের চতুর্থ এবং মায়ামির সপ্তম গোলটি করেন তিনি। এমএলএসে এবারই প্রথম এক ম্যাচে চার গোল করলেন মেসি। তার পেশাদার ক্যারিয়ারে এক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করার এটি নবম ঘটনা। লিগে ১৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও এখন সবার ওপরে তিনি।
আর ৭-১ স্কোরলাইনটি অনিবার্যভাবেই মনে করিয়ে দিয়েছে বেলো হরিজন্তের ‘মিনেইরাও বিপর্যয়’। ২০১৪ সালের ৮ জুলাই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মাত্র ২৯ মিনিটের মধ্যেই ব্রাজিলের জালে পাঁচ গোল দিয়েছিল জার্মানি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতেছিল ৭-১ ব্যবধানে, যা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়।
সেই স্মৃতি মেসির জন্যও সুখকর ছিল না। ব্রাজিলকে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে ওঠা জার্মানিই পাঁচ দিন পর অতিরিক্ত সময়ের গোলে তার আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল। ১২ বছর পর আরেকটি ৭-১এর রাতে এবার বিজয়ী দলের মধ্যমণি হয়ে দাঁড়ালেন মেসি।



-26c4f8.webp)